নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি কি এখনো প্যাক্টর?...

নেগেটিভ ইমেজের পরও কেন লাখো ভিউ পাচ্ছে জাকির খানের ভিডিও?

128

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একসময় অত্যন্ত আলোচিত নাম ছিল জাকির খান। নানা বিতর্ক, মামলা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে তার বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশের পর অনেক ক্ষেত্রেই তা কয়েক লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখেরও বেশি ভিউ পাচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে—কেন এমন হচ্ছে? বিতর্কিত বা সমালোচিত হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তির ভিডিওই বা কেন এত বেশি মানুষ দেখছেন?

ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাওয়া। একজন ব্যক্তি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক—সেটি অনেক সময় দর্শকের প্রথম বিবেচ্য বিষয় হয় না। বরং তিনি কী বলছেন, কীভাবে বলছেন কিংবা নতুন কোনো তথ্য দিচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ই মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। বিতর্ক যত বেশি, কৌতূহলও তত বেশি—এমন প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেগেটিভ বা বিতর্কিত কনটেন্ট তুলনামূলক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষোভ, বিস্ময় বা বিতর্ক সৃষ্টি করে এমন ভিডিওতে মানুষ বেশি মন্তব্য করে, শেয়ার করে এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করে। ফলে ফেসবুক বা ইউটিউবের অ্যালগরিদম সেই ভিডিও আরও বেশি মানুষের সামনে নিয়ে যায়। অর্থাৎ, মানুষ ভিডিওটির সঙ্গে একমত কি না, তার চেয়ে ভিডিওটি কতটা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, সেটিই অ্যালগরিদমের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, জাকির খানের ভিডিও শুধু তার সমর্থকেরাই দেখছেন না। সমালোচকরাও তিনি কী বলছেন, সেটি জানার জন্য ভিডিও দেখছেন। ফলে একই ভিডিও দুই পক্ষ থেকেই বিপুল সংখ্যক ভিউ পাচ্ছে। কেউ সমর্থনের জন্য দেখছেন, কেউ সমালোচনার জন্য, আবার কেউ শুধুই কৌতূহল থেকে দেখছেন। এই বহুমুখী দর্শকই ভিডিওর ভিউ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুরোনো ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি। ফলে অতীতে প্রভাবশালী বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কোনো নেতার বক্তব্য প্রকাশ পেলেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুক বা ইউটিউব কোনো ভিডিওকে বক্তার পরিচয়ের কারণে ভাইরাল করে না। বরং একটি ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যে বেশি লাইক, মন্তব্য, শেয়ার এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেখা হলে সেটি আরও বেশি মানুষের নিউজফিডে পৌঁছে যায়। ফলে একবার আলোচনায় উঠে এলে সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি ভিডিওর লাখ লাখ ভিউ হওয়া মানেই সেই ব্যক্তির প্রতি জনসমর্থন রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অনেকেই সমালোচনা করার জন্য ভিডিও দেখেন, অনেকে বক্তব্য যাচাই করতে দেখেন, আবার অনেকে শুধুই বিতর্কের কারণে ভিডিওটি চালিয়ে দেখেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিউ এবং বাস্তব রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এক বিষয় নয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিসংখ্যান অন্তত এটুকু ইঙ্গিত দেয় যে জাকির খান এখনো জনআলোচনার বাইরে চলে যাননি। তার যেকোনো বক্তব্য প্রকাশ পেলেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। তবে এটিকে সরাসরি রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার প্রমাণ বলা যাবে না। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এবং মাঠের রাজনৈতিক প্রভাব বা ভোটের সমর্থন এক নয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জাকির খানের ভিডিওর উচ্চ ভিউয়ের পেছনে ব্যক্তিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, মানুষের কৌতূহল, সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম একযোগে কাজ করছে। ফলে নেগেটিভ ইমেজ থাকা সত্ত্বেও তার ভিডিও ব্যাপক দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এই ভাইরালিটিকে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত সূচক হিসেবে না দেখে, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বাস্তব প্রবণতা হিসেবেই বিবেচনা করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

প্রয়োজনে আমি এটিকে আরও বেশি অনুসন্ধানী (Investigative) বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী ভাষায় রূপ দিতে পারি, যাতে এটি জাতীয় দৈনিকের ফিচার পাতার উপযোগী হয়।