এক যুগেও শেষ হয়নি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ...

রেলওয়ের উন্নয়নের নামে শত শত কোটি টাকা জলে

155
নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাত্র তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগ (১২ বছর) পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি এই মেগা প্রকল্প। চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫৭.২০ শতাংশ। একদিকে কাজের এই চরম ধীরগতি, অন্যদিকে দফায় দফায় বাজেট বাড়িয়ে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা অপচয় বা ‘জলে ফেলার’ এক জ্যান্ত নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রেললাইন।
দীর্ঘসূত্রতার এক যুগ:
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যকার যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করতে ২০১৪ সালে এই ডাবল লাইন প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। তৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশে জায়গা সংকট এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে ঝুলে থাকে কাজ। ফলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই রুটের লাখ লাখ যাত্রীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
দ্বিগুণ হয়েছে ব্যয়:
প্রকল্পের শুরুতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কিন্তু বারবার সময় বৃদ্ধির সুযোগে এবং কাজের পরিধি পরিবর্তনের অজুহাতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকায়। কাজের কাজ না হলেও জনগণের ট্যাক্সের শত শত কোটি টাকা ঠিকই এই দীর্ঘ সময়ে খরচ হয়ে গেছে।
ঠিকাদার বদল ও নতুন চুক্তি:
প্রকল্পের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল আগের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম উদাসীনতা। একপর্যায়ে কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে যায় তারা। ফলে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। স্থবিরতা কাটাতে গত বছরের এপ্রিল মাসে (২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল) ‘জিপিটি-স্ট্যান্ডার্ড জয়েন্ট ভেঞ্চার’ নামক একটি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানের সাথে ৩১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার নতুন চুক্তি সই করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বর্তমান অবস্থা ও নতুন ডেডলাইন:
নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি থাকা নতুন ডুয়েলগেজ লাইনের কাজ শেষ করার পাশাপাশি বিদ্যমান পুরনো মিটারগেজ লাইনটিকেও ডুয়েলগেজে রূপান্তর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে কাজের যে গতি, তাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অর্থাৎ, এই রেললাইন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ট্রেন চলাচল দেখতে সাধারণ মানুষকে আরও অন্তত দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তদারকির অভাব এবং দূরদর্শিতাহীন পরিকল্পনার কারণেই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প আজ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।