বিএনপি সফল হবে বলে মনে করেন অনেকে

আ.লীগ ফিরার প্রশ্নে উঠে এলো নানা মত

100

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

বিএনপি সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হলে কি আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসবে—এমন একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। প্রশ্নটির জবাবে নেটিজেনদের মন্তব্যে যেমন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে, তেমনি অনেকে মনে করছেন বিএনপি ব্যর্থ হলেও আওয়ামী লীগের জন্য সরাসরি ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি হবে না। বরং সৃষ্টি হতে পারে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ।

সম্প্রতি সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবনের একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়—ধরুন বিএনপি ব্যর্থ হলো, তার অর্থ কি এটা যে আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে? এই প্রশ্নের নিচে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মন্তব্যে উঠে আসে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নানা ধরনের আশঙ্কা, প্রত্যাশা ও বিশ্লেষণ।

মন্তব্যকারীদের একটি অংশ সরাসরি বলছেন, বিএনপি ব্যর্থ হলেও আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাদের যুক্তি, আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির প্রতি মানুষের আস্থা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপি ব্যর্থ হলে জাতীয় সরকার, নতুন রাজনৈতিক শক্তি কিংবা অন্য কোনো বিরোধী দল সামনে চলে আসতে পারে।

আবার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কয়েকজন মন্তব্যে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলকে চিরতরে মুছে ফেলা যায় না এবং জনগণের সমর্থন ফিরে পেলে আওয়ামী লীগও একদিন রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে। তাদের কেউ কেউ বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা, বিশেষ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যাকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন।

তবে বিএনপির সমর্থকদের বড় একটি অংশ এই প্রশ্নের ভিত্তিটিই মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন এবং জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দলটি ব্যর্থ হবে—এমন ধারণা করার কারণ নেই। বরং তারা মনে করেন, বর্তমান সংকট কাটিয়ে বিএনপি শৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দীর্ঘ সময় জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

কমেন্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মত উঠে এসেছে—বিএনপি ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসবে, এমন কোনো রাজনৈতিক সূত্র নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সরকার জনপ্রিয়তা হারালে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে অন্য দল বা জোটকে বেছে নিতে পারে। ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কেউ কেউ অবশ্য আরও কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ, জাতীয় সরকার কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো সম্ভাবনার কথাও কয়েকজন মন্তব্যকারী তুলে ধরেছেন। এমনকি কেউ কেউ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথাও বলেছেন। তবে এগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত; এগুলোকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই।

এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন প্রশ্নটি শুধু বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিএনপি সফল হবে কি না, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে কী অবস্থানে থাকবে, নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি কতটা জায়গা তৈরি করতে পারবে এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে—এসব প্রশ্নই সামনে চলে আসছে।

বিশেষ করে একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, দেশে গণতন্ত্র কার্যকর থাকলে শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবে কে ক্ষমতায় আসবে এবং কে বিদায় নেবে। এই বক্তব্যটিই সম্ভবত পুরো বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কারণ কোনো দল ব্যর্থ হলেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফল হয়ে যায় না। জনগণের আস্থা অর্জন, সুশাসন, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ।

ফলে বিএনপি ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগ ফিরবে কি না—এর সরল উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। আওয়ামী লীগ চাইলে বা বিএনপি ব্যর্থ হলেই যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা যেমন নেই, তেমনি জনগণের সমর্থন পেলে কোনো রাজনৈতিক দল ভবিষ্যতে ফিরে আসতে পারবে না—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক যদি জনগণই হয়, তাহলে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—কে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারছে। বিএনপি ব্যর্থ হলে সেই শূন্যস্থান আওয়ামী লীগ পূরণ করবে, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি সামনে আসবে—তার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।