ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে অবগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী...

টানবাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগ: পুলিশের নজরদারি, অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা

138

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম বৃহৎ সুতা ব্যবসার কেন্দ্র টানবাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে অবগত রয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টানবাজার ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কিংবা ব্যবসায়ী সংগঠন চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি বা অন্য কোনো অপরাধের বিষয়ে লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি টানবাজারের কুটি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সুতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো, দোকানে লোক পাঠানো কিংবা ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গিয়ে নাজেহাল করার মতো অভিযোগও করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা অন্য কোনো চাপকে বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং নজরদারি রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যবসায়ী সংগঠন যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে।”

ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছেন, পুলিশের এই অবস্থান টানবাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতির কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে না পারলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বাধীনভাবে কাজ করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু প্রকাশ্য অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে কুটি পাড়া ও টানবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলো যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টানবাজার নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে বিপুলসংখ্যক সুতা ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী মানুষের জীবিকা জড়িত। ফলে চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য নয়, পুরো বাণিজ্যিক পরিবেশের জন্যই বড় ধরনের হুমকি।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা—অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অন্যদিকে পুলিশও স্পষ্ট করেছে, অভিযোগ পেলেই তা তদন্ত করা হবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এখন দেখার বিষয়, টানবাজারের ব্যবসায়ীরা পুলিশের এই আশ্বাসের পর কতটা নির্ভয়ে সামনে এসে অভিযোগ করেন এবং তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রকৃত চিত্র কতটা প্রকাশ পায়।