সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত পদ্মা অয়েল ডিপো প্রাঙ্গণে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।...

বি এনপি নেতা ওকিল ভুঁইয়া ও তার স্বজনদের তাণ্ডব : অয়েল ডিপো কর্তৃপক্ষ ও চালকরা চরম অতিষ্ঠ

197

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ):
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষিত পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি এবং ডিপোকে কেন্দ্র করে গাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র ডিপো নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার ফলে ডিপোতে কর্মরতদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তেল নিতে আসা গাড়িচালকরা।

​গত শনিবার (১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত পদ্মা অয়েল ডিপো প্রাঙ্গণে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপোর এক কর্মচারী জানান, ঘটনার সময় হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি ডিপোর ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভুঁইয়ার ভাতিজা সজীব ভুঁইয়া, ভাগনে ফয়সাল এবং হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ওকিল ভুঁইয়ার আরেক ভাতিজা আলামিন ভুঁইয়াসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ডিপোতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে পঞ্চবটির শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের অনুসারী আমির, গোলাম ও স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। তারা ডিপোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হুমকিমূলক আচরণ করেন।

​চাঁদাবাজি ও চালকদের ভোগান্তি:
ভুক্তভোগী গাড়িচালকদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডিপো থেকে বিভিন্ন উপায়ে সুবিধা ও মাশরা নিচ্ছেন। এছাড়া ডিপোগামী প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন হারে জোরপূর্বক চাঁদা উত্তোলন করা হয়।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা যদি নিয়মিত এই চাঁদা না দেই, তাহলে আমাদের গাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী গাড়ি প্রবেশের কথা থাকলেও তারা সিরিয়াল ব্রেক করে অন্য গাড়ি আমাদের সামনে ঢুকিয়ে দেয়। এর ফলে আমরা সময়মতো তেল উত্তোলন করতে পারি না এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম হয়রানির শিকার হই।”
​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পদ্মা অয়েল ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আমিনুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
​সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা অয়েল ডিপো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কেপিআইভুক্ত (Key Point Installation) প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনায় বহিরাগতদের প্রবেশ, হুমকি এবং চাঁদাবাজির মতো অবৈধ কার্যক্রম কীভাবে চলছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী চালকরা।