সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য : পুনঃভর্তির নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে না.গঞ্জের কয়েকটি ইংলিশ স্কুল?

280

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানী-সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম ও ইংলিশ ভার্সন স্কুলের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে পুরোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তির নামে বিভিন্ন শিরোনামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, সরকার স্পষ্টভাবে পুনঃভর্তি ফি আদায় নিষিদ্ধ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান ‘ইভেন্ট চার্জ’, ‘অন্যান্য চার্জ’সহ বিভিন্ন নামে একই ধরনের অর্থ আদায় করে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, শহরের এবিসি স্কুল, হেরিটেজ স্কুল, চেঞ্জেস স্কুল, বেলী স্কুল ও ফিলোসোফিয়া স্কুলসহ আরও কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তির সমপরিমাণ অর্থ ভিন্ন নামে আদায় করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন নং-৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০৫.২২-১৮-এ পুনরায় স্পষ্ট নির্দেশনা দেয় যে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো নামেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না। এর আগে ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন নং-৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০৫.২২.১৬১-এও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পুনঃভর্তির নামে কিংবা অন্য কোনো শিরোনামে একই ধরনের অর্থ আদায় করা হলে তা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, এমনকি লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ফি-তালিকায় ‘পুনঃভর্তি’ শিরোনামটি ফাঁকা রাখলেও ‘ইভেন্ট চার্জ’, ‘অন্যান্য চার্জ’ কিংবা ভিন্ন কোনো খাতে প্রায় একই পরিমাণ অর্থ আদায় করছে। এতে সরকারি নির্দেশনার উদ্দেশ্য কার্যত ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রতি বছর নতুন নতুন নামে টাকা বাড়ানো হচ্ছে। কাগজে পুনঃভর্তি লেখা না থাকলেও বাস্তবে সেই টাকাই নেওয়া হচ্ছে। আমরা বাধ্য হয়ে দিচ্ছি, কারণ সন্তানদের পড়াশোনার কথা চিন্তা করতে হয়।”

আরেকজন অভিভাবকের ভাষ্য, “দেশে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন। তার ওপর বছরের শুরুতেই অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি নেই।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অর্থ আদায় চললেও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করছে।

তাদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তারা সংগঠিতভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

তাদের ভাষায়, “আমরা চাই আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হোক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি নীতিমালা না মানে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফি আদায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট, অভিযোগ যাচাই এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।