সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

রাসেল মেম্বারের গ্রেফতারে বক্তাবলীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া, মুক্তির দাবি

94

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেল চৌধুরী ওরফে রাসেল মেম্বারকে গ্রেফতারের খবরে গোটা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেকেই দাবি করছেন, রাসেল মেম্বারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাসেল চৌধুরী কেন গ্রেফতার হয়েছেন কিংবা তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী—তা তারা পরিষ্কারভাবে জানেন না। তবে তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে পরিচিত রাসেল মেম্বার একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের ভোটে পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালনরত ইউপি সদস্য।

গ্রেফতারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, রাসেল মেম্বারকে বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তার দাবি, রাসেল মেম্বারকে এ ধরনের মামলায় আসামি করাটাই সবচেয়ে বড় বৈষম্য। তার ভাষ্য, কারও ওপর আঘাত করার মতো ব্যক্তি রাসেল মেম্বার নন। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে রাসেল মেম্বারের মুক্তি দাবি করেন।

জুনায়েদ আহম্মেদ জিসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাসেল চৌধুরীর গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে বক্তাবলীর সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বক্তাবলীর মতো পঞ্চায়েতভিত্তিক গ্রাম্য সমাজব্যবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মিলেমিশে চলতে হয়। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জিসানের দাবি, রাসেল চৌধুরীও দীর্ঘদিন ধরে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ তাকে ভালোবেসে পরপর তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছেন। বক্তাবলী পরগনাতেও রাসেল চৌধুরীর একটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে জিসান একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, রাসেল চৌধুরীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আদর্শিক মতপার্থক্য রয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় তাদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে রাসেলকে তিনি কাছ থেকে চেনেন বলে দাবি করেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তার বক্তব্য, কারও ওপর জুলুম করা, কাউকে হত্যায় মদদ দেওয়া কিংবা কাউকে উস্কানি দেওয়ার মতো কাজ রাসেল চৌধুরীর পক্ষে সম্ভব নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, রাসেল চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি দলের কোনো পদ-পদবি গ্রহণ করেননি। দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও তিনি মামলা-বাণিজ্য কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—এমন দাবি করেছেন তার সমর্থকরা। তাদের ভাষ্য, তিনি বরং সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।

স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও রাসেল মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সৃষ্টি, সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো দৃশ্যমান নজির নেই। ফলে তার বর্তমান গ্রেফতার নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে রাসেল মেম্বারের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাসেল চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এটি সত্য হলেও কারও ওপর জুলুম বা নির্যাতন করেছেন এমন কোনো নজির তাদের জানা নেই। তাই তাকে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি করা হলে সেটিও মেনে নেওয়া যায় না। রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া উচিত বলেও তারা মনে করেন।

রাসেল মেম্বারের গ্রেফতারের পর বক্তাবলীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু সামাজিকভাবে দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে হঠাৎ গ্রেফতার করার ঘটনায় তারা বিস্মিত।

তাদের দাবি, রাসেল চৌধুরী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা হোক এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার হোক। কিন্তু তাকে অন্যায়ভাবে হয়রানি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সব মিলিয়ে রাসেল মেম্বারের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে বক্তাবলীতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মুক্তির দাবিতে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকেও গ্রেফতারের বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করা হচ্ছে।

তবে রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন মামলায়, কী অভিযোগে এবং কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

এ অবস্থায় বক্তাবলীর সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করা হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।