৬০ হাজার কোটি টাকার মেট্রো রেল...

নারায়ণগঞ্জ শহর নয়, রূপগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত হবে মেট্রোরেল

58

নিজস্ব প্রতিবেদক :

৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জমুখী মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও প্রস্তাবিত রুটের বিস্তারিত সামনে আসার পর দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। প্রস্তাবিত MRT Line-2 নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত নয়, রূপগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল লাইনে থাকবে ২৪টি স্টেশন। গাবতলী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ডেমরা হয়ে রূপগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত যাবে প্রস্তাবিত রুট। প্রকল্পে ভূগর্ভস্থ ও উড়াল—দুই ধরনের অংশ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও (AIIB) ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (PDPP) পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

প্রস্তাবিত রুটে গাবতলী থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা হয়ে তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইনের প্রস্তাবও রয়েছে।

এখানেই নারায়ণগঞ্জবাসীর বড় প্রশ্ন—৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিতব্য মেট্রোরেল যদি নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম ব্যবহার করে, তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ এর সরাসরি সুবিধা কতটা পাবেন?

কারণ নারায়ণগঞ্জ শহর জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র। চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ, খানপুরসহ শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের কেন্দ্র। অথচ বর্তমান প্রস্তাবিত MRT Line-2-এর রুটে এসব এলাকার কোনোটি নেই।

অন্যদিকে তারাবো রূপগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও পৌর এলাকা। ফলে মেট্রোরেল তারাবো পর্যন্ত গেলে রূপগঞ্জ ও আশপাশের মানুষ রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের বড় সুবিধা পাবেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে সরাসরি মেট্রো যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি তখনও থেকে যাবে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালের একটি পরিকল্পনায় গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, সাইনবোর্ড, ভূইগড়, জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রুটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

কিন্তু সর্বশেষ আলোচিত প্রস্তাবে রুটের শেষ প্রান্ত হিসেবে নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিবর্তে তারাবোকে সামনে আনা হয়েছে।

এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি, মেট্রোরেল প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও রুট নির্ধারণের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে সরাসরি মেট্রো নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জেলার নামের সঙ্গে ‘নারায়ণগঞ্জ’ যুক্ত হলেই জেলার প্রধান নগরকেন্দ্র মেট্রোরেল সুবিধা পাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথায় স্টেশন হবে এবং কোন এলাকাগুলো সরাসরি যুক্ত হবে—সেটিই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে মূল প্রশ্ন একটাই—৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার মেট্রোরেল কি সত্যিই নারায়ণগঞ্জ শহরে আসছে, নাকি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোতেই থেমে যাবে?

চূড়ান্ত প্রকল্প অনুমোদন, রুট ও স্টেশন নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যাবে না। তবে সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোরেলের গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ শহর নয়—রূপগঞ্জের তারাবো।