নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলাকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক নিপীড়ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যুবদল নেতারা অভিযোগ করেন, রনিকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে একটি ‘সুনির্দিষ্ট মহল’ ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে তাকে ঘিরে ফেলছে। তাদের দাবি, এসব মামলা কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়—বরং বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার একটি কৌশল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে অসংগতি ও দুর্বলতা রয়েছে, যা প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা। তবুও দ্রুততার সঙ্গে মামলা গ্রহণ এবং তা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি “স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে” বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
যুবদল নেতারা দাবি করেন, মশিউর রহমান রনি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এই প্রভাবই তাকে ‘টার্গেট’ করার মূল কারণ বলে মনে করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“আইন যদি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তি নয়—রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলতে চাই, কোনো পক্ষের প্রভাবে নয়—শুধু সত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মীকে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এভাবে চলতে থাকলে জনগণের আইনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সংগঠনটি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্রতর হয়েছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী বলয়ের মধ্যে চাপানউতোর বাড়ার ফলে মামলা ও পাল্টা মামলার প্রবণতাও বেড়েছে। এতে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অতীতে এমন অভিযোগ একাধিকবার উঠলেও সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। ফলে নতুন করে ওঠা এ বিতর্ক প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করতে পারে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রশাসনকে দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা দেখাতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকেও উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংলাপের পথে এগোতে হবে।




