শিল্পের রাজধানী ফতুল্লায় নতুন এমপিকে নিয়ে পূরনো শংকা

141

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন জেলার অন্যতম জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় এলাকা। হাজার হাজার শিল্পকারখানা, বিস্তীর্ণ শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় ভরপুর এই আসন দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক বেল্ট হিসেবে পরিচিত। তবে বিস্ময়করভাবে, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে এখানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া খুব একটা লাগেনি এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে এই আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট আবদুল্লা আলআমিন। নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে কিছুটা আশা তৈরি হলেও শুরু থেকেই এলাকায় বিরাজ করছে সংশয় ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত তিন দশকে যারা এই আসনের এমপি হয়েছেন, তারা উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ের প্রভাবশালী নেতারা এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলেই দাবি সাধারণ মানুষের। একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে ঘিরে রয়েছে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও এলাকার মৌলিক সমস্যা যেমন জলাবদ্ধতা, রাস্তার বেহাল অবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা এসবের স্থায়ী সমাধান করতে পারেননি। বরং ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগই বেশি শোনা যায় তার বিরুদ্ধে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে রয়েছে অসংখ্য গার্মেন্টস, ডাইং, ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন লাখো শ্রমিক এখানে কাজ করেন। কিন্তু সেই তুলনায় নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এত বড় শিল্প এলাকা, কিন্তু রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে মনে হয় আমরা গ্রামেরও পিছিয়ে আছি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের এলাকায় হাসপাতাল নেই, ভালো স্কুল নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শুধু কারখানা আর কারখানা। কিন্তু মানুষের জন্য কিছুই করা হয়নি।
নবনির্বাচিত এমপি আবদুল্লা আলআমিনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও বড় একটি অংশ তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। মূল কারণ তিনি বিরোধী দলের এমপি। স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ভালো মানুষ হলেও কি লাভ? তিনি যদি সরকারে না থাকেন, তাহলে উন্নয়নের জন্য বাজেট আনবেন কীভাবে? আগেও তো দেখেছি—বিরোধী এমপি হলে এলাকায় কাজ হয় না। একজন শ্রমিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রাজনীতির কারণে আমাদের এলাকাই সবসময় বঞ্চিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন নির্ভর করছে কেবল এমপির সদিচ্ছার উপর নয়, বরং জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপরও। এদিকে, স্থানীয় জনগণের দাবি দল-মত নির্বিশেষে এবার যেন বাস্তব উন্নয়ন হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে তারা একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দেখতে চান।
শিল্পসমৃদ্ধ হয়েও উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসন আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নতুন এমপি আবদুল্লা আলআমিন কি পারবেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে, নাকি অতীতের মতোই হতাশার চক্রে আবদ্ধ থাকবে এই জনপদ—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ##