গুরু-শিষ্য দ্বন্ধ চরমে

ফতুল্লার রাজনীতিতে কার প্রভাব কেমন?

60

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুরে বিএনপির রাজনীতিতে একসময় যাঁদের সম্পর্ককে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক হিসেবে দেখা হতো, সেই মনিরুল আলম সেন্টু ও শহীদুল ইসলাম টিটুর মধ্যে এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

মনিরুল আলম সেন্টু দীর্ঘদিন ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি কুতুবপুর ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০২ সালে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেন্টুর রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁর সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কথা উঠে এসেছে। এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় শামীম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর আবার বিএনপিতে ফেরার উদ্যোগ নেন সেন্টু। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিএনপিতে ফেরার আবেদন করার খবর প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, শহীদুল ইসলাম টিটু বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনেও তাঁকে এই পদে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুতুবপুরের রাজনীতিতে সেন্টুর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক ভিত্তি রয়েছে। তাঁর পরিবার এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত—এমন দাবিও স্থানীয়ভাবে রয়েছে। ফলে দলীয় পদ-পদবির বাইরে কুতুবপুরে সেন্টুর ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রভাবকে আলাদা একটি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে।

অন্যদিকে, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় টিটু এখন ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে অবস্থান করছেন। ফলে স্থানীয় সামাজিক প্রভাব ও দলীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা—দুই ভিন্ন ধরনের শক্তি একই এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ কারণেই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কুতুবপুরে শেষ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কোন শক্তি বেশি কার্যকর হবে? দীর্ঘদিনের সামাজিক ভিত্তি, নাকি দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব?

একসময় যাঁদের সম্পর্ককে রাজনৈতিক গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক হিসেবে দেখা হতো, সেই দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান এখন অনেকটাই আলাদা। সেন্টুর রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থানীয় ভিত্তি, আর টিটুর হাতে রয়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব।

ফলে কুতুবপুরের বিএনপির রাজনীতিতে সেন্টু-টিটুর এই নতুন সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে যায়, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। তবে তাঁদের মধ্যে সরাসরি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা কে কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে দুজনের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।