পিএফের টাকা তুলতে রিটায়ার্ড শিক্ষকের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ ক্লার্ক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে

32

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রবিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করা এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্লার্ক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষকের ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষক কঠোর অবস্থান নিলে তার চেক পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী মো. মিরন মিয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৪৯ নম্বর তল্লা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তার প্রবিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি।

মিরন মিয়ার অভিযোগ, টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্লার্ক আবু তাহের তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইল আটকে রাখা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার প্রাপ্য টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

অভিযোগকারী জানান, একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ও চাপ সৃষ্টি করলে তার চেক পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

মিরন মিয়া বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে চাকরিজীবনের সঞ্চয় ও প্রাপ্য প্রবিডেন্ট ফান্ডের টাকা পেতে গিয়ে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী পাওনা টাকা পেতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ তার কাছে ঘুষ দাবি করা হয়েছে এবং তা না দেওয়ায় ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্লার্ক আবু তাহেরের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার কাছে কোনো ঘুষ দাবি করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি অভিযোগটি সঠিক নয় বলে জানান।

তবে অভিযোগকারী মিরন মিয়ার দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই তার ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরই চেক পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষকের কাছ থেকে তার আইনগতভাবে প্রাপ্য অর্থ ছাড় করতে ঘুষ দাবির অভিযোগটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের হয়রানির ঘটনা নয়, বরং সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের একটি গুরুতর অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষককে তার নিজের প্রাপ্য অর্থ পেতে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেনের মুখোমুখি হতে হলে তা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।