জেলা প্রশাসককে স্থানীয়দের ধন্যবাদ...

ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগরকে নাসিকে নেওয়ার উদ্যোগে উন্নয়ন ‍নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার

78

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণের বাস্তবতায় সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের পুরো এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা দূর করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তারা।

সর্বশেষ প্রশাসনিক প্রস্তাবে ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে কাশীপুরসহ কয়েকটি এলাকার অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব থাকলেও সর্বশেষ প্রস্তাবে কাশীপুরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরকে নিয়ে সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগটি এখন নতুন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব পাচ্ছে বাস্তব নগর পরিস্থিতি। ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত কয়েক দশকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা দ্রুত বেড়েছে। শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, সড়ক ও বিপুল জনবসতির কারণে এসব এলাকার বড় একটি অংশ কার্যত নারায়ণগঞ্জ নগরীর সম্প্রসারিত এলাকায় পরিণত হয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর পাশাপাশি একটি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ উদ্যোগের জন্য বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে এগিয়ে নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। সরকারি তথ্যেও মোঃ রায়হান কবিরকে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক হিসেবে এবং এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, ফতুল্লার এই এলাকাগুলোকে এখন আর প্রচলিত অর্থে গ্রামীণ এলাকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত কয়েক দশকে এখানে ব্যাপক নগরায়ণ হয়েছে। বিপুল মানুষের বসবাসের পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক স্থাপনার কারণে এ অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, একজন এনায়েতনগরের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, বাস্তবতার সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোর সমন্বয় করা এখন সময়ের দাবি। ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রফিকুল ইসলাম জীবন আরও বলেন, এ উদ্যোগের জন্য আমি জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা ছিল, প্রশাসনের উদ্যোগে সেটি এখন বাস্তব প্রক্রিয়ার মধ্যে এসেছে। আমি আশা করি, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত, জনমত ও এলাকার বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সীমানা সম্প্রসারণের পরবর্তী ধাপগুলোও স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরকে নারায়ণগঞ্জের পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে শুধু এসব এলাকার নাগরিকরাই উপকৃত হবেন না, পুরো নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত হবে।

তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তি না বলে সীমানা সম্প্রসারণের প্রস্তাব ও সুপারিশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জের নগর সীমানা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।