মাদক ব্যবসায়ীদের পরিস্কার বার্তা

এসপি হাবিবুরের কঠোর অবস্থানে টানা সাঁড়াশি অভিযান, আজ গ্রেপ্তার ৯২

84

নিজস্ব প্রতিবেদক,

মাদকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতায় যেন নতুন গতি এসেছে। নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক স্পট চিহ্নিত করে ধারাবাহিক অভিযান, একাধিক থানায় সমন্বিত তৎপরতা এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার ঘটনায় অপরাধীদের মধ্যে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। পুলিশের সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানের পর নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে।

সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলার সাত থানায় একযোগে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫ মাদক ব্যবসায়ী ও ৮৭ মাদকসেবীসহ মোট ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। ফতুল্লা, বন্দর, সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানা এলাকায় পরিচালিত ওই অভিযানে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানটি ছিল এসপি মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নগরীর জিমখানা ও ঋষিপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে জেলার সাত থানায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১০৩ জনকে আটক করা হয়। ওই অভিযানের সময় এসপি হাবিবুর রহমান সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান।

শুধু বড় অভিযান নয়, ছোট ছোট মাদক স্পটেও পুলিশি তৎপরতা বাড়ছে। ৭ সেপ্টেম্বর বন্দর এলাকায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হন। সোনারগাঁওয়েও ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। এসব অভিযানের ক্ষেত্রেও এসপি হাবিবুর রহমানের নির্দেশনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এসপি হাবিবুর রহমান শুধু গ্রেপ্তারকেই মাদক নির্মূলের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন না। ১২ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, পুলিশ মাদক স্পটগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে এবং ভাসমান মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে; তবে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক শুধু তরুণ সমাজকেই বিপথে নিচ্ছে না, এর সঙ্গে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধেরও যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযান হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি বোঝা যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জায়গাতেই এসপি হাবিবুর রহমানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মাদকপ্রবণ এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিক অভিযানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জেলা পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

তবে মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে সফল করতে হলে শুধু কয়েক দফা সাঁড়াশি অভিযান যথেষ্ট নয়। গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক, সরবরাহের উৎস, অর্থের প্রবাহ এবং পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, একই সঙ্গে অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে এসপি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ কতটা দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তারপরও শুরুতেই যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হলো—নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ এবার শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে তার দৃশ্যমান তৎপরতা নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।