মাদক-ছিনতাই-কিশোর গ্যাং ও যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ এসপি হাবিবুর রহমানের

28

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসপি হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

নারায়ণগঞ্জে মাদক, ছিনতাই, চুরি, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও তীব্র যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত নারায়ণগঞ্জ জেলা

 পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।সভায় শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যরা নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, ছিনতাই, চুরি, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও যানজটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকরা নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা না থাকলে যোগান আসে না। মাদকসেবীর সংখ্যা বেশি থাকায় মাদক কারবারিরা সুযোগ নিচ্ছে। পুলিশের তৎপরতায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি অনেকটাই বন্ধ হয়ে এখন আড়ালে চলে গেছে। তবে শুধু মাদকসেবী কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের মূল হোতা ও যোগানদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

মাদকের অর্থের উৎস শনাক্ত করতে মানি লন্ডারিং আইনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সামনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেউ যাতে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে মিথ্যা তথ্য না দিতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান এসপি। যেকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে বলেও তিনি জানান।

ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রাতে ও ভোরবেলায় ভাসমান অপরাধীদের একটি অংশ মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট ও সামারি ট্রায়ালের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকসেবীদের শুধু গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

যানজট প্রসঙ্গে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের যানজট শুধু পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনসহ একাধিক সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত। শহরকে যানজটমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় সভা করা হবে।

এ সময় সম্প্রতি অনলাইনে প্রকাশিত ‘এসপি-ওসি’র নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়েও আলোচনা হয়। পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।