আমরা চিরদিনের জন্য এ প্রি – পেইড মিটার চাই না : এড মাহবুবুর রহমান মাসুম 

47

রবিবার ( ৩০ আগষ্ট ) সন্ধ্যায় দেওভোগ মার্কেট মালিক সমিতির অফিসে দেওভোগ পোষাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি ও নাগরিক অধিকার ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে দেওভোগ পোষাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি কবির খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন,

আমরা কিন্তু প্রি পেইড মিটার এই মুহূর্তের জন্য না আমরা চিরদিনের জন্য এ মিটার চাই না । প্রি – পেইড মিটার সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তির পরিবর্তে মানসিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বর্তমান পদ্ধতিতে নানা ধরনের ভোগান্তি অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা বাতিল করে প্রচলিত পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। নেপালের সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে যেমন কিয়ামতের একটি ভার্চুয়াল আভাস পাওয়া যায়, তেমনি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রিপেইড মিটারও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনে এক ধরনের মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে।

তনি আরো বলেন, প্রিপেইড মিটার যেন দৈনন্দিন জীবনের যন্ত্রণা বিদ্যুৎ বিভাগ প্রিপেইড মিটার চালুর পর সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব, বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ এবং রিচার্জ-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় অনেক গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে স্থায়ীভাবে প্রিপেইড মিটার বাতিল করতে হবে। ইবিএম বাতিল হলে প্রিপেইড মিটার নয় কেন?

আলোচনায় ইবিএম (EVM) প্রসঙ্গ টেনে এড. মাসুম প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচন কমিশন যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ইবিএম বাতিল ও অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে, সেখানে জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ানো প্রিপেইড মিটার কেন বাতিল করা যাবে না?  গ্রাহক স্বার্থে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে এসব মিটার সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে হবে।

এড. মাসুৃম শীতলক্ষ্যা সেতুর বিষয়ে বলেন,  শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরকে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কদম রসূল সেতুর কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ থমকে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী সাত দিনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে না পারলে তাদের যন্ত্রপাতি গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিনের বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি বলে সমাবেশে দাবি করা হয়। সমাবেশে ৫ নম্বর ঘাট থেকে বন্দর পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ৭৫ ফুটে উন্নীত করার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কাজ স্থবির হয়ে আছে।

নারায়ণগঞ্জে পৃথক ওয়াসা গঠনের উদ্যোগেরও তীব্র বিরোধিতা করেন নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতারা। তাদের দাবি, নগরীর পানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সিটি করপোরেশনের অধীনেই রাখা উচিত। নতুন কোনো সংস্থা গঠনের মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত পানির কর চাপানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে—গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া কোনো বাসাবাড়ি, দোকান কিংবা মহল্লায় প্রবেশ করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া কেউ জোরপূর্বক কোনো বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তা প্রতিহত করবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে  মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, প্রিপেইড মিটার যদি সত্যিই উপকারী হতো, তাহলে গ্রাহকরাই মিটার নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাতেন। কিন্তু বাস্তবে কোথাও মিটার খুলে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, আবার কোথাও মিটার স্থাপনে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারের আগে গ্রাহকদের এর সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে ৩৫ জন প্রতিনিধি মিটারের সুফল জানতে চাইলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন , প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ডাটা ও নিয়মিত চার্জের প্রয়োজন হয়—যা অনেক সাধারণ গ্রাহকের জন্য বাড়তি চাপ। পাশাপাশি ১ হাজার টাকা রিচার্জে প্রায় ৩৯০ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই টাকা কীভাবে ও কেন কাটা হচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা গ্রাহকরা পাচ্ছেন না।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, গ্রাহকের টাকা কেটে নেওয়া হলে এর জবাবদিহি কোথায়? সাধারণ মানুষ অভিযোগ নিয়ে ঢাকার বনানীতে যাবে কেন?

তার দাবি, প্রিপেইড মিটার চালুর আগে গ্রাহকদের পরিষ্কারভাবে এর সুবিধা, খরচ ও টাকা কাটার হিসাব জানাতে হবে।

প্রিপেইড মিটার নিয়ে জনগণকে আগে বোঝানোর আহ্বান জানিয়ে সুজন মাহমুদ বলেন, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার চালুর আগে সাধারণ জনগণকে এর সুবিধা-অসুবিধা ও ব্যবহার সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে বোঝানোর আহ্বান জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী নেতা।

তিনি বলেন, আমি সাঁতার জানি না, আমাকে নদীতে ছেড়ে দিলে বিপদ হবে। একইভাবে জনগণকে না বুঝিয়ে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। জনগণের ন্যায্য যেকোনো প্রতিবাদে ব্যবসায়ী সমাজ পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন এর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল,দেওভোগ পোষাক প্রস্তুত কারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক দিদার খন্দকার, মজিবুর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, মনির হোসেন, রমজান মাদবর সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।