স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর বাজার রেললাইন বস্তি এলাকায় নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরার অভিযোগের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মামলার এজাহারভুক্তির অপেক্ষায় থাকা অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
গত ৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে খাজিদা বেগম (৩০) নামে এক নারীর অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অভিযোগে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার রানা ও মুসা নামে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় ভাড়াটিয়া নিয়ে বিরোধের জেরে খাজিদা বেগমের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর, জামা-কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, চুলের মুঠি ধরে টেনে বের করে দেওয়ার চেষ্টা এবং ঘুষি-লাথি মারার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জীবননাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর খাজিদা বেগম ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই বক্তব্যের পরও কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তারা এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছেন। এতে তিনি নিজে এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
খাজিদা বেগম বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পর তিনি আশা করেছিলেন তদন্ত শেষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অভিযুক্তরা যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, তাহলে তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্নই এখন তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোনো অভিযোগের তদন্তে পুলিশ সত্যতা পাওয়ার কথা জানানোর পরও যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘসূত্রতা হয়, তাহলে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তেমনি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে একজন নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।
এদিকে অভিযুক্ত রানা ও মুসার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থানও জানা সম্ভব হয়নি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কেন অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া কোথায় আটকে আছে? আর ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বই বা কে নেবে?
ভুক্তভোগী খাজিদা বেগম দ্রুত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।




