নিজস্ব প্রতিবেদক :
মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল ও নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির আলোচনা যতই জোরালো হচ্ছে, ততই নতুন করে আলোচনায় আসছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আজাদ। তাঁর সমর্থকদের দাবি, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বিএনপির এই তরুণ ও প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা।
সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে আগস্টে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আলোচনা চলছে—এমন খবর গত জুলাই থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রীদের আলোচনায় নজরুল ইসলাম আজাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। বরং আড়াইহাজারের এই এমপিকে ঘিরে মন্ত্রিত্বের আলোচনা মূলত তাঁর রাজনৈতিক অনুসারী ও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবির ওপরই নির্ভর করছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, যিনি নিজেকে নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন, এই প্রতিবেদককে বলেন, “নিশ্চিতভাবেই নজরুল ইসলাম আজাদ মন্ত্রী হচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের কোটা এবারও পূরণ হবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ থেকে একজনকে মন্ত্রিসভায় নেবেন—তিনি হচ্ছেন আজাদ।”
তাঁর দাবি, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তখনই নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব এসেছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে নারায়ণগঞ্জের আব্দুর মতিন চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলেও তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক রেজাউল করিম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মন্ত্রীত্বের নজির বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজাদের অনুসারী ওই নেতা বলেন, “আব্দুর মতিন চৌধুরী শুধু মন্ত্রীই ছিলেন না, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। রেজাউল করিমও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ফলে নারায়ণগঞ্জকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব দেওয়া বিএনপির রাজনীতিতে নতুন কোনো বিষয় নয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রিত্বের আলোচনায় নজরুল ইসলাম আজাদের নাম আসার পেছনে তাঁর দলীয় অবস্থান, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তা এবং আড়াইহাজারের নির্বাচনী ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। বেসরকারি ফলাফলে আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা পান ৮১ হাজার ৫৪ ভোট।
নির্বাচনের পর আড়াইহাজারের উন্নয়ন নিয়েও সক্রিয় রয়েছেন আজাদ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আড়াইহাজারকে দুর্নীতি ও গ্যাস সংকটমুক্ত করে আধুনিক ও উন্নত মডেল এলাকায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি আড়াইহাজারের তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার নিয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
দলীয় রাজনীতিতেও নজরুল ইসলাম আজাদের দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা রয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অর্থনৈতিক বিষয়ক দায়িত্ব এবং দলের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
ফলে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—জেলার পাঁচ সংসদ সদস্যের মধ্যে এবার কে পাচ্ছেন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব?
এ প্রশ্নের উত্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যায়নি। বরং জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের আলোচনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তখন জানিয়েছিলেন, নতুন নিয়োগ বা মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।
তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তাঁর অনুসারীদের দৃঢ় বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের মন্ত্রীত্বের ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকবে এবং সেই প্রতিনিধিত্ব করবেন আড়াইহাজারের এমপি আজাদ।
শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে সেই জল্পনার বাস্তবতা। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাই নজরুল ইসলাম আজাদের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি সমর্থকদের জোরালো দাবি ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।




