অনেকটাই যানজটমুক্ত হবে শহর...

অবশেষে সড়ানো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ শহরের গলার ফাঁস রাইফেল ক্লাব : প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক

1265

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া মোড় থেকে রাইফেল ক্লাব অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের খবরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে চাষাঢ়া মোড়ের যানজট নিরসনে রাইফেল ক্লাবের স্থাপনা অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। এবার জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে সেই দাবির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, চাষাঢ়া এলাকার রাস্তা বড় করা হবে এবং রাইফেল ক্লাবকে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। রাস্তা সম্প্রসারণের পর জায়গা অবশিষ্ট থাকলে সেখানে শহীদ জিয়া হল করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চাষাঢ়া মোড় নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম প্রবেশপথগুলোর একটি হলেও সড়কের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। বিভিন্ন দিক থেকে আসা বাস, মিনিবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি একই এলাকায় এসে মিলিত হওয়ায় প্রতিদিনই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

চাষাঢ়া মোড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে থাকা রাইফেল ক্লাবের স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে সেখানে সড়ক প্রশস্ত করা হলে যান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন নগরবাসী। এতে মোড়টির যানবাহন ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়িগুলো অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারবে।

শুধু যানজট কমানোই নয়, রাইফেল ক্লাব সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলে চাষাঢ়া মোড়ের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পথচারীদের চলাচল, জরুরি যানবাহনের দ্রুত যাতায়াত এবং নগরের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহনকে যানজটের মধ্যে আটকে থাকার ঝুঁকি কমবে।

এ ছাড়া চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় যানজট কমলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চাষাঢ়া হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। যানজট কমলে তাদের কর্মঘণ্টা ও মূল্যবান সময়ের অপচয়ও কমবে।

নগরবাসীর মতে, চাষাঢ়া মোড়ের সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেখানে পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত ও পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শহরের কেন্দ্রীয় অংশের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

অন্যদিকে রাস্তা সম্প্রসারণের পর জায়গা অবশিষ্ট থাকলে সেখানে শহীদ জিয়া হল নির্মাণের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য সেটিও হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি। দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি আধুনিক ও পর্যাপ্ত সুবিধাসম্পন্ন মিলনায়তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছেন নগরবাসী। শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি স্থাপনা হলে সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, রাইফেল ক্লাব স্থানান্তর ও সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাটি যেন শুধু ঘোষণা বা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চাষাঢ়াকে যানজটমুক্ত ও আধুনিক নগর প্রবেশদ্বারে পরিণত করা হোক—এটাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।

দীর্ঘদিনের জনদাবির পর চাষাঢ়া থেকে রাইফেল ক্লাব সরানোর উদ্যোগ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।