জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির ৩ বছর, চরম সাংগঠনিক সংকট, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ শীর্ষ ২ নেতা

156

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গসংগঠন হলো যুবদল ও ছাত্রদল। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি এবং মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে যুবদলের গুরুত্ব সবসময়ই বেশি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক চিত্র নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে সেটি ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে রূপ দেওয়া হলেও, টানা প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। একই সঙ্গে জেলার কোনো থানা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য নতুন কমিটি গঠনের খবর নেই বলে দাবি করছেন সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী।
বর্তমানে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদেকুর রহমান সাদেক এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন মশিউর রহমান রনি। সংগঠনের দায়িত্বে থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাতটি থানা, পাঁচটি পৌরসভা, ৩৯টি ইউনিয়ন ও অসংখ্য ওয়ার্ড নিয়ে বিশাল সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। অথচ দীর্ঘ তিন বছরে অধিকাংশ ইউনিটেই নতুন নেতৃত্ব গঠন হয়নি। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
দলের একাধিক তৃণমূল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য দেওয়া হয়। এর প্রধান দায়িত্ব থাকে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে একই আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকায় নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের শীর্ষ দুই নেতা সাদেকুর রহমান সাদেক ও মশিউর রহমান রনির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন।
তবে সংগঠনের ভেতরে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শীর্ষ দুই নেতার ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হয়েছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দুই নেতাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নেতাকর্মীদের আরেকটি অভিযোগ, বর্তমানে জেলা যুবদলের কর্মসূচি আগের তুলনায় অনেকটাই সীমিত। মাঝেমধ্যে কিছু কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও সেগুলোতে তৃণমূলের অংশগ্রহণ আগের মতো দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক নির্বাচন ও কমিটি না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে আগ্রহও কমে গেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যদি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চায়, তাহলে যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং তৃণমূলে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক দুর্বলতা দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
প্রথমত: আর কতদিন আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল?
দ্বিতীয়ত: যদি শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে থাকে, তাহলে সাধারণ কর্মীদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন কবে হবে?
তৃতীয়ত: থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নতুন কমিটি কবে গঠন করা হবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাই নয়, বিএনপির রাজনীতি পর্যবেক্ষণকারী মহলেরও আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। ##