প্রতিকূলতাকে জয় করে নতুন নেতৃত্বে সোহাগ : এবার আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি

146

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ব্যবসায়িক সাফল্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নানা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে নতুন এক দায়িত্বে অভিষিক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জের পরিচিত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। ঐতিহ্যবাহী নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি জেলার আটা-ময়দা শিল্পের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। গত ১৫ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এ দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল আলী।

দীর্ঘদিন ধরে আটা-ময়দা শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বর্তমানে মীম শরৎ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও শিল্পোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।

ব্যবসায়ী মহলের মতে, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শিল্পখাত সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান এবং সমন্বয়মূলক নেতৃত্বের কারণে তিনি নিতাইগঞ্জের মিল মালিকদের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি খাদ্যপণ্য বাজার হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, বর্তমানে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মিল মালিকরা কঠিন সময় পার করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। পাশাপাশি নিতাইগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও নির্ধারিত স্থান বরাদ্দের বিষয়টি তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিতে উত্থাপন করবেন বলে জানান।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। মীম শরৎ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে তিনি ব্যবসায়ী সমাজের বাইরেও একটি ইতিবাচক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণকে জেলার উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, একটি আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তবে তাঁর পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালের ১ জুন সংঘটিত বহুল আলোচিত অপহরণের ঘটনায় তিনি জীবনসংকটে পড়েছিলেন। পরদিন পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন অসাধু কর্মচারীর তথ্যের ভিত্তিতেই অপহরণকারীরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পরও তিনি ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ফিরে এসে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ব্যক্তিগত সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ প্রমাণ করেছেন যে দৃঢ় মনোবল, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের সমন্বয় থাকলে প্রতিকূলতাও অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁরা আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি আরও শক্তিশালী হবে, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং আটা-ময়দা শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজও মনে করছে, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। তাঁর নতুন দায়িত্ব শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার নতুন সম্ভাবনারও সূচনা। ##