শীতলক্ষা রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারমুক্ত ফুটপাতের সফলতা অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং সিটি করপোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের যৌথ নেতৃত্বে চালানো উচ্ছেদ অভিযানের পর দ্বিতীয় দিনেও পুরো শহরে ফুটপাত একেবারে পরিষ্কার রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সড়ক, চাষাঢ়া, নয়ামাটি, ডিআইটি মোড়, স্টেশন রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় পথচারীরা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।
দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর শহরবাসী তাদের হারানো ফুটপাত ফিরে পেয়ে আনন্দ ও স্বস্তিতে ভাসছেন। এমপি আবুল কালাম ও প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সাহসী ও সমন্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নগরজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয় কালাম-সাখাওয়াত জুটি তার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় থাকা রহিম মুন্সী ও আসাদ সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে শহর এখন পুরোপুরি মুক্ত। ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমপি কালাম ও প্রশাসক সাখাওয়াতের শক্ত অবস্থানের কারণে শহরের চেহারা বদলে গেছে।
চাষাঢ়া এলাকার বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, ১৫-১৬ বছর পর আজ সত্যিকার অর্থে ফুটপাতে হাঁটতে পারছি। আগে যুদ্ধ করতে হতো। এমপি আবুল কালাম ও প্রশাসক সাখাওয়াত সাহেবকে লাখো কৃতজ্ঞতা। তারা শহরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসীকে।
নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, মেয়েদের জন্য ফুটপাতে চলাফেরা এখন অনেক নিরাপদ ও আরামদায়ক। হকারদের অশালীন টিপ্পনী আর ভিড় আর নেই। কালাম স্যার ও সাখাওয়াত স্যারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, দোকানের সামনে হকার বসিয়ে আমাদের ব্যবসা নষ্ট করা হতো, চাঁদাও দিতে হতো। আজ সেই জঞ্জালমুক্ত শহর দেখছি। এমপি সাহেব নিজে মাঠে নেমেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, “জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এই অভিযান চালিয়েছি। ফুটপাত মুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও চলাচলযোগ্য শহর উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার আমরা পূরণ করছি। এই অর্জন ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা চাই।
নগরবাসীর মতে, এবারের উদ্যোগ শুধু অভিযান নয়, বরং একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা। সুশীল সমাজও এই যৌথ প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নারায়ণগঞ্জ সত্যিই একটি মডেল শহরে পরিণত হবে। ##



