নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত দুই নেতা শামীম ওসমান ও জাকির খানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শামীম ওসমানের দেওয়া বক্তব্য নজরে এসেছে নারায়ণগঞ্জের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাকির খানের। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, শামীম ওসমানের বক্তব্য তিনি শুনেছেন। তবে ওই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন জাকির খান।
গতকাল জাকির খানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অনুসারী নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য, শামীম ওসমান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারপ্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না জাকির খান। তবে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, শামীম ওসমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি করার সুযোগ নেই।
জাকির খানের ঘনিষ্ঠ একাধিক অনুসারী বলেন, “আমাদের নেতা জাকির খান শামীম ওসমানের বক্তব্যকে মোটেও পাত্তা দিতে রাজি নন। কারণ বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালতের বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে। বিচার শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করাটা তিনি প্রয়োজন মনে করছেন না।”
তাঁদের দাবি, শামীম ওসমান দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের রাজনীতি করে এসেছেন, সেটিকে তারা আর নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত জনগণই করবে এবং শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও সময়ই নির্ধারণ করবে।
জাকির খানের অনুসারীদের বক্তব্য, শামীম ওসমানকে নিয়ে এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব বিষয় বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তির পরই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তাঁদের একজন বলেন, “শামীম ওসমানের বিচার শেষ হলে বোঝা যাবে তাঁর ভবিষ্যৎ কোথায় যায়। তার আগে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো প্রয়োজন আমরা মনে করি না।”
তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, শামীম ওসমান বা তাঁর অনুসারীদের কোনো বক্তব্য কিংবা কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেন না।
জাকির খানের অনুসারীরা আরও বলেন, শামীম ওসমানের ইশারায় নারায়ণগঞ্জে কেউ অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তাঁদের ভাষায়, “শামীম ওসমানের ইশারায় যদি নারায়ণগঞ্জের কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে জাকির খানসহ বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবেন।”
তবে তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের অবস্থান কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার পক্ষে নয়। বরং নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তারা অবস্থান করছেন। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তারা।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান ও জাকির খান দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত দুটি নাম। অতীতে দুই পক্ষের রাজনৈতিক বিরোধ বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শামীম ওসমানের বিদেশে অবস্থান, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের রাজনৈতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আবারও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাকির খানের অনুসারীরা বলছেন, শামীম ওসমানের বক্তব্যের জবাব দিয়ে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁরা এই মুহূর্তে দেখছেন না। বরং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই তারা আগ্রহী।
তবে শামীম ওসমানকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা মাঠে থাকার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে শামীম ওসমানের নিউইয়র্কের বক্তব্যকে ঘিরে জাকির খানের অনুসারীদের এই প্রতিক্রিয়া নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, শামীম ওসমান এ বিষয়ে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান কি না এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না।




