মন্ত্রীপরিষদে রদবদল হচ্ছে কি?

এডভোকেট আবুল কালাম অথবা নজরুল ইসলাম আজাদ কি মন্ত্রী হচ্ছেন?

329

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন মন্ত্রিসভায় নারায়ণগঞ্জ থেকে কে জায়গা পাচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নাম ঘুরেফিরে আসছে আলোচনায়।

তবে এখন পর্যন্ত এ দুজনের কাউকে মন্ত্রী করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, সম্ভাবনা ও অনুসারীদের প্রত্যাশার মধ্যেই রয়েছে। নজরুল ইসলাম আজাদকে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে—এমন তথ্যও সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারীদের দাবি, খুব শিগগিরই তাঁকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে। তাদের মতে, বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা, দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং বিগত সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্যেও তাঁকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ মনে করছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার দিকে তাকালেই দলের পুরোনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের অনেকের অনুপস্থিতি চোখে পড়ে। তাদের যুক্তি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খানসহ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতারা অতীতে রাজপথের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের বিরোধী আন্দোলনেও তাঁরা সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু এবার মন্ত্রিসভায় তাঁদের জায়গা হয়নি—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আজাদের অনুসারীরা।

তাঁদের মতে, সেই বিবেচনায় অ্যাডভোকেট আবুল কালামের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বয়সের পরিবর্তে নজরুল ইসলাম আজাদকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে আবুল কালামের অনুসারীদের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আসনগুলোর একটি। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং চারবারের সংসদ সদস্য। ফলে অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সদর আসনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।

আবুল কালামের অনুসারীরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থেকে একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা জেলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই বাস্তবতায় সদর-বন্দর আসনের অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে আবুল কালামের মন্ত্রিসভায় থাকার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্য সম্প্রতি জেলার উন্নয়ন নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যরা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান। সেখানে নজরুল ইসলাম আজাদও মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে জেলার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও রয়েছে। অতীতে এই জেলা থেকে মতিন চৌধুরী মন্ত্রী এবং রেজাউল করিম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নতুন সরকারে নারায়ণগঞ্জ থেকে আবারও মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পান কি না—তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে শুধু বয়স, নির্বাচনী আসনের গুরুত্ব কিংবা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়—দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক ভূমিকা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের আস্থা এবং সরকারের প্রয়োজনীয়তার মতো একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ফলে শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম আজাদ নাকি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম—কে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন, সেটি নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

তবে দুই নেতার অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন একটাই—এডভোকেট আবুল কালাম অথবা নজরুল ইসলাম আজাদ—শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন মন্ত্রী?