বিএনপিতে ফখরুলের যুগ শেষ

এরপর কে হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব?

102

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের পর শূন্য হয়ে গেছে বিএনপির মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ণ পদ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটির এই শীর্ষ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করা ফখরুলের বিদায়ের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা—কে হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব?

দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দুটি নাম—বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাদের পাশাপাশি যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিব পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে এই দৌড়ে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মসূচি ও অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে মহাসচিব পদে তার নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। দলের প্রবীণ নেতাদের একটি অংশ সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

তবে মহাসচিব পদে কে আসবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির গঠনতন্ত্রে স্থায়ীভাবে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামে কোনো পদ না থাকলেও অতীতে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের পর কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের নজির রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর দলের কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

এ কারণে জাতীয় কাউন্সিলের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। আবার দল চাইলে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের নামও ঘোষণা করতে পারে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত। দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের নাম।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ নেতৃত্বের পর বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন শুধু একটি সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ আনার বিষয় নয়, বরং এটি দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক গতিপথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রিজভী না সালাহউদ্দিন—নাকি শেষ মুহূর্তে উঠে আসবে অন্য কোনো নাম—এখন সেটিই বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগ পর্যন্ত মহাসচিব পদ নিয়ে এই আলোচনা ও জল্পনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।