“বন্ধ ও রুগ্ন গার্মেন্ট চালু করতে ব্যাপক তৎপরতা”

214

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে বন্ধ ও রুগ্ন গার্মেন্টস কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন মোহাম্মদ হাতেম। সংশ্লিষ্ট মহলে এখন আলোচনা, তার নেতৃত্বে দেশের পোশাক শিল্পে নতুন গতি ফিরতে পারে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ এর নেতারা রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত এবং সংকট নিরসনে সম্ভাব্য নীতিগত সহায়তার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের চাপ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার এবং কর জটিলতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোকে কীভাবে পুনরায় উৎপাদনে আনা যায়, তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। তবে এসব সংকট সমধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর থেকে রাতদিন একাকার করে কাজ করে চলেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহম্মদ হাতেম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্প মালিকের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর বাস্তব চিত্র, শ্রমিক সংকট, আর্থিক দায় এবং উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়গুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারকে দ্রুত কার্যকর প্রস্তাবনা দেওয়ার জন্য বিশেষ টিমও গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের পোশাক শিল্প নানা চাপে থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো সরকার সরাসরি রুগ্ন শিল্প পুনরুদ্ধারের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ হাতেমকে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় দেখা হচ্ছে। ফলে শিল্প মালিকদের মধ্যেও এক ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক নেতারাও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে। একই সঙ্গে নতুন করে ছাঁটাই ও শ্রমিক অসন্তোষ কমে আসবে।
এদিকে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতকে সচল রাখতে হলে শুধু প্রণোদনা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতাও জরুরি। তারা বলছেন, ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল, স্বল্পসুদে পুনর্বাসন তহবিল, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কর কাঠামো সহজ করা গেলে অনেক বন্ধ কারখানাই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআর এর সঙ্গেও সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত কিছু দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আভাস মিলছে।
সব মিলিয়ে, শিল্প মালিকদের ভাষায়, “সংকট এখনো কাটেনি, তবে দীর্ঘ সময় পর অন্তত আশার কথা শোনা যাচ্ছে।” আর সেই আশার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মোহাম্মদ হাতেম-এর নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ। ##