নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফতুল্লা থানার গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে টানা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কুপাকুপি এবং একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান না থাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বরং পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুদিন ধরেই গাবতলী ও ইসদাইর কার্যত মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হলেও পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতার সুযোগে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গতকাল গাবতলীর আমেনা গার্মেন্ট মোড়ে মাদকাসক্ত এক যুবকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় শিশু সহ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, দিনের আলোতে একজন মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বেড়ালেও তাকে ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এর আগের দিন গাবতলী খানকা শরীফের পেছনের সড়কে মাদকাসক্ত দুই গ্রুপের ভয়াবহ সংঘর্ষে সুফিয়ান ও নয়ন গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে প্রকাশ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চললেও এলাকায় দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাপুইরাপট্টি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিলয়ের শেল্টারে সোয়াদ ও জহিরুলের নেতৃত্বে একটি ভয়ংকর গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। এছাড়া পেটকাটা রকি, উৎসব ওরফে উৎস, ইকবাল, মনির ও মুন্না মতো একাধিক মাদক কারবারির নাম এলাকাজুড়ে প্রকাশ্যে আলোচিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেসব মাদক স্পট ও সন্ত্রাসী গ্রুপের অবস্থান সাধারণ মানুষ জানে, সেগুলো কি পুলিশের অজানা? যদি অজানা না হয়, তাহলে কেন বছরের পর বছর এসব চক্র বহাল তবিয়তে থেকে যাচ্ছে? এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যে ছোটখাটো অভিযান চালিয়ে দু-একজন মাদকসেবী আটক করা হলেও মূল গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এখন স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরদের টার্গেট করছে। সহজ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদক বিক্রি, তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারামারি, কুপাকুপি, ছিনতাই কিংবা মাদকসেবীদের উন্মত্ত আচরণ দেখতে দেখতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার এখন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, গাবতলী-ইসদাইরের পুরো মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে যারা আড়াল থেকে এসব চক্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা। ##




