রফিকুল ইসলাম জীবন :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড় এখন যেন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর ধরে চলমান ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের কারণে ব্যস্ততম এই মোড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রাস্তার মাঝখানে ফেলে রাখা হয়েছে বড় বড় ভাঙা কংক্রিটের টুকরো, বালির স্তুপ ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
বর্তমানে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে হাঁটুসমান কাদাপানি। কোথায় গর্ত, কোথায় ভাঙা কংক্রিট—তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই পঞ্চবটি মোড়ে লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজট। যে পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ে এক মিনিটেরও কম সময় লাগার কথা, সেখানে এখন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকেই এই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
দুর্ভোগ শুধু যানজটেই সীমাবদ্ধ নয়। ভাঙা কংক্রিট, গর্ত ও নির্মাণসামগ্রীর কারণে প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। অনেক গাড়ির টায়ার-টিউব ফুটো হয়ে যাচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এতে চালক ও মালিকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থনৈতিক ক্ষতি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীদের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পঞ্চবটি মোড় নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার সংযোগস্থল। এই মোড় দিয়ে পূর্ব দিকে নারায়ণগঞ্জ শহর, উত্তর দিকে ফতুল্লা, পাগলা ও পোস্তগোলা, দক্ষিণ দিকে বিসিক শিল্পনগরী, কাশীপুর ও মোক্তারপুর এবং পশ্চিম দিকে ধর্মগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। ফলে এই মোড়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর ফেলে রাখায় গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়টি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কাজের গতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক চলাচল উপযোগী করা, নির্মাণসামগ্রী অপসারণ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা।
তাদের ভাষ্য, উন্নয়ন মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোর জন্য নয়; বরং মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য। তাই জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।




