১) সরকারের অর্থনৈতিক ব্যার্থতা ২) সরকারের আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে ব্যার্থতা ৩) বিএনপি-জামায়াত-এনসিমিপর অনৈক্য...

তিন কারণে দ্রুত পুনর্বাসিত হতে পারে আওয়ামী লীগ

174

রফিকুল ইসলাম জীবন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। একদিকে দলটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, মামলা ও সাংগঠনিক সংকট রয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বর্তমান সরকারের কিছু ব্যর্থতা এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি বিষয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো সরকারের জনপ্রিয়তা নির্ধারণে অর্থনীতি সবচেয়ে বড় নিয়ামক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিল্প উৎপাদনে স্থবিরতা, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সংকট এবং ব্যবসায়ীদের আস্থাহীনতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

তাদের মতে, জনগণ সাধারণত আদর্শের চেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সেই জনঅসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একটি সরকারকে মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যদি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ বাড়তে থাকে, তবে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের মতে, জনগণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে ক্ষমতাচ্যুত দলও নিজেদের “স্থিতিশীলতার বিকল্প” হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পেতে পারে।

সরকার ও বিরোধী দলগুলোর অনৈক্য

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে যদি নেতৃত্ব, নির্বাচন, সংস্কার কিংবা কৌশলগত বিষয়ে মতবিরোধ বাড়তে থাকে, তাহলে এর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হতে পারে আওয়ামী লীগ।

তাদের ভাষ্য, ইতিহাসে দেখা গেছে, বিরোধী রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়া দলকেও পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সরকারবিরোধী ভোট যদি বিভিন্ন দলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, তবে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে আসা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

সামনে কী হতে পারে?

পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কেবল বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করবে না। দলটির নিজস্ব সাংগঠনিক পুনর্গঠন, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, অতীতের সমালোচনার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে।

একই সঙ্গে বর্তমান সরকার যদি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান সাফল্য দেখাতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা দুর্বলও হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ কথা এখনই বলা কঠিন। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল, সরকারের পারফরম্যান্স এবং জনমতের পরিবর্তনই নির্ধারণ করবে দেশের রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ।

:::