রামিসা হত্যায় উত্তাল দেশ : সালাউদ্দিনের পদত্যাগ, বাবরের পদায়ন চায় জনতা

240

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ টুকরো করার ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পুরো বাংলাদেশ। এই বীভৎস অপরাধের প্রতিবাদে দেশের সাধারণ মানুষ, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকে দায়ী করে অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। একই সাথে দেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথে জোর আওয়াজ তুলছেন।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর বাথরুমে হত্যা করে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এই পৈশাচিক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দেশে নারী ও শিশুদের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা নেই। তারা বর্তমান সরকারের পতন না চেয়ে, সুনির্দিষ্টভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের অপসারণ দাবি করছেন।
জনগণের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে খুন, ধর্ষণ, সামাজিক সহিংসতা এবং ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের প্রয়োগ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচনা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতে, অপরাধীদের মনে আইনের কোনো ভয় নেই এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই রামিসার মতো অবুঝ শিশুদের এভাবে বলি হতে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নমনীয় নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মন্থর গতিকে এই ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিক্ষোভকারীরা।
বর্তমান এই অস্থির পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের অবদানের কথা স্মরণ করছেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জনগণের দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় বাবরের আমলের বেশ কিছু সাফল্য সামনে আনা হচ্ছে। অপরাধ দমনে তার কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা, ২০০৫ সালের দেশজুড়ে বোমা হামলার পর জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের মতো শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেফতার এবং অপরাধ দমনে কার্যকর বিশেষায়িত বাহিনী ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন’ (র‌্যাব) গঠনে তার অন্যতম প্রধান ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমানের এই ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে লুৎফুজ্জামান বাবরের মতো একজন কঠোর প্রশাসকের বিকল্প নেই।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে কোনো আইনজীবী আসামির পক্ষে লড়বেন না। যদিও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দ্রুততম সময়ে এই মামলার চার্জশিট জমা দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও রাজপথের বিক্ষোভ ও বাবরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার গণদাবি থামছে না। দেশের মানুষ এখন দ্রুত পরিবর্তন চায় তারা চায় এমন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর হাতে দমন করবেন। ##