নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সাবরিয়া আক্তার অনিয়া (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) রাতে কাঁচপুর সোনাপুর এলাকায় ঘটে।
মৃত সাবরিয়া আক্তার অনিয়া চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার বাড়িয়াখালী গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সোনাপুর এলাকায় স্বামী সায়েম মিশেলের বাসায় বসবাস করতেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাবরিয়া নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোনাপুর এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় মৃতের মা ফেরদৌস আরা থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করেছেন। মামলার পর তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমার মেয়ে আমার বাসায় ছিলো, আমার বাসা থেকে আমার মেয়ের জামাই আমার মেয়েকে সন্ধ্যা ৭ টার সময় নিয়ে যাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমাকে আমার মেয়ের জামাই ও শ্বাশুরী ফোন দিয়ে বলে এখানে খুনাখুনি হয়ে যাচ্ছে আপনি আসেন, তখন আমি তাদের বলি আপনারা ঠেকান আমি এতোদুর থেকে এসে কিভাবে ঠেকাবো। এরপরে আমি তাদের বাসায় গিয়ে দেখি আমার মেয়ে খাটের উপর শোয়া। আগেও আমার মেয়ের জামাই নেশা করে বাসায় গিযে আমার মেযের সাথে অশান্তি করতো। আমার মেয়ের জামাই আর শ্বাশুরী মিলেই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।
এসময় মৃতের ভাই বলেন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে আমার বোন শোয়া, বোনের জামাই, বোনের শ্বাশুরী কাউকে পাইনি। ফার্মেসির ডাক্তার এসে পরিক্ষা করে দেখে আমার বোন মৃত। সেখান থেকে আমার বোনকে পোষ্ট মর্টেম এর জন্য নারায়নগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিযে আসে পুলিশ।
তবে এজাহার সূত্রি জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে অভিমান করে তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তার ধারণা।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




