শিক্ষা, সমাজসেবা ও আন্দোলনের চার দশক : রাজনীতিতে ক্রমেই সিরাজুল মামুনের প্রভাব বাড়ছে

41

স্টাফ রিপোর্টার :

শিক্ষা, সমাজসেবা ও আদর্শিক রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকের নিরবচ্ছিন্ন পথচলায় এবিএম সিরাজুল মামুন আজ নারায়ণগঞ্জের একটি পরিচিত ও আস্থার নাম। শিক্ষকতা থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলন, ইসলামী রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান—সবখানেই তাঁর সক্রিয় ও দৃঢ় উপস্থিতি তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন সাহসী ও নির্লোভ নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নারায়ণগঞ্জের একটি শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এবিএম সিরাজুল মামুন পৈতৃকভাবেই শিক্ষা ও নৈতিকতার চর্চায় বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান ছিলেন জেলার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। সেই ধারাবাহিকতায় সিরাজুল মামুন নিজেও ছাত্রজীবন থেকেই মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি কোরআন-হাদিস, তাফসির ও ইসলামী ইতিহাসে গভীর অধ্যয়ন করেন এবং নিজ উদ্যোগে কুরআনের হাফেজ হন।

আশির দশক থেকেই নারায়ণগঞ্জে একজন ব্যতিক্রমধর্মী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে পরিবর্তন আনেন। “মোল্লা মামুন স্যার” নামে পরিচিত এই শিক্ষক শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এবিএম সিরাজুল মামুনের পথচলা ছিল আন্দোলন ও ত্যাগে ভরপুর। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে খতমে নবুওত, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদ, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক হেফাজতের কর্মসূচি—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি মাঠের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। এসব আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও আপসহীন অবস্থান থেকে তিনি কখনো সরে দাঁড়াননি।

সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তাঁকে শিক্ষার্থীদের পাশে প্রকাশ্যে রাজপথে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনাও নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ইসলাম ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট।

সমাজসেবার ক্ষেত্রেও এবিএম সিরাজুল মামুনের অবদান উল্লেখযোগ্য। শিক্ষকতা জীবনের বড় অংশের আয় তিনি গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। বিনামূল্যে শিক্ষাদান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, শীতবস্ত্র ও কোরবানির গোশত বিতরণসহ নানামুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা আজ বহু অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল।

বর্তমানে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। সহজ-সরল জীবনযাপন, নির্লোভতা ও সৎসাহসী নেতৃত্বের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন, সুবিচার ও মানবিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে এবিএম সিরাজুল মামুনের মতো একজন শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও আদর্শবান নেতৃত্ব সময়ের দাবি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওয়াল ঘড়ি মার্কা নিয়ে তাঁর প্রার্থিতা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। এবারের নির্বােচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।