যুদ্ধের পর যে ইতিহাস তৈরি করা হয়েছিলো সেটা ব্যক্তি ও পরিবারের নামে – মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর 

35

১৩৯ জন শহীদের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ নভেম্বর বক্তাবলী গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার আহ্বায়ক ও সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ইতিহাস কোনদিন ভুল, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের উপর দাঁড়াতে পারেনা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো জনগণের ভিত্তির ওপর। ত্যাগ, সহযোগিতা, গণহত্যা সকল কিছু মেনে নিয়েছিলে জনগণ। মুক্তিযুদ্ধের কোন অহংকার, গৌরব জনগণ পায় নি। যুদ্ধের পর যে ইতিহাস তৈরি করা হয়েছিলো সেটা ব্যক্তির নামে পরিবারের নামে। সে ইতিহাস বাংলাদেশে কোনদিন টিকবেনা। ৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছি, আমরা মরেছি এবং তাদেরকে মেরেছি। পরিশেষে জয় লাভ করেছি তাদেরকে পরাজিত করে।

তিনি আরও বলেন, এ বক্তাবলীতে আমরা পূর্বেও এসেছি কিন্তু এ ঘটনা আঞ্চলিক কোন ঘটনা বা জাতীয় পুস্তিকা কোথাও আসেনি। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের বর্তমান প্রজন্ম জানেনা। ভুল তথ্য দেয়ার কারনে ৫৪ বছর যাবৎ বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারেনি। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার তরুন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিলো তৎকালীন সরকার। সেই হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন নিতে চায় নি কিন্তু প্রকৃতি নিয়েছে। আমরা কি গুনকীর্তন করবো নাকি সত্য ঘটনা বলবো। বক্তাবলীর ১৩৯ জন মানুষকে হত্যার কোন স্বীকৃতি নেই কারন সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে চায় নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন জাতি নেই যারা যুদ্ধ করে নিজেদের গৌরব অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। বক্তাবলীবাসী ইতিহাস কোনদিন আপনাদের ভুলে যাবেনা। এটাই আমাদের ঠিকানা, এই রক্তমাখা জায়গায় আমরা বার বার ফিরে আসবো।

সভাপতি মোহাম্মদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানে আমি বলবো সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। যদি আপনারা আশ্বাস দেন, সহযোগিতা করেন তাহলে, দোয়া করেন তাহলে আগামী দিনে আমি নির্বাচন করবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল বরণ রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবীর, সিনিয়র আইনজীবী এড. জাকির হোসেন প্রমুখ।