ব্যবসায়ী সোহাগ অপহরন ও হুমকি : ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্বেগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

283

ফার্স্ট  নিউজ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্জ মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরন এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের অপর দুই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। গতকাল যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লি: এবং ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান ব্যবসায়ী সোহাগকে অপহরন করার পর তার মুক্তি এবং মুক্তি পরবর্তী ঘটনা সমূহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা জানতে পেরেছি সোহাগের মতো একজন প্রথম সারির ব্যবসায়ীকে অপরহর করা হয়েছে। তিনি মুক্তি লাভ করার পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতারের পর অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার তাকে হুমকি দিলো। পরে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হলো। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আমি মনে করি প্রশাসনের উচিৎ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের দমন করা। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচারের দাবি জানাই। কেনোনা তার মতো একজন ব্যবসায়ীকে অপহরন করার পর বিচার না হলে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ীরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। তাই ব্যবসায়ীদের পক্ষ্য থেকে আমি প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি প্রশাসন যেনো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তির ব্যাবস্থা করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অপর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মডেল গ্রুপের মালিক জনাব মাসুদুজ্জামান আরো তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন। তিনি বলেন ব্যবসায়ী মো: সোহাগকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। তিনি মানুষ হিসাবে খবুই ভালো একজন মানুষ। আর একজন ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি সফল একজন উদ্যোক্তা। শুধু তাই নয় তিনি এই শহরের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। সমাজের সর্বস্থরে তিনি অবধান রেখে চলেছেন। তাই তার মতো একজন ভালো সাধারন ব্যবসায়ীকে অপরহরন করা হলো। এই ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তবে এতোটুকু বলবো ব্যবসায়ী সোহাগকে অপহরনের ঘটনায় আমরা চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। তাই আমি পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই এই ঘটনার পেছনে কে বা কারা আছে তাদেরকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার এবং কঠোর সাজার ব্যাবস্থা করতে হবে। এই ঘটনার বিচার করে এমন নজির স্থাপন করতে হবে যাতে আর কোনো ব্যাসায়ীর গায়ে হাত দিতে অপরাধীরা সাহস না পায়। ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান আরো বলেন, অপরাধীরা হয়তো সোহাগকে দূর্বল ভেবেছে। কারন সোহাগের আচার ব্যবহার খুবই ভালো। কিন্তু আমি আজ পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই এই ঘটনায় প্রশাসন যদি নূন্যতম কোনো গাফিলতি করে তাহলে আমরা ছেড়ে দেবোনা। সমস্ত ব্যবসায়ী সমাজ প্রতিরোধ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। তাই প্রশাসনের প্রতি আমার আহবান থাকবে প্রশাসন যেনো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব এই ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে। অন্যথায় ব্যবসায়ী সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো ক্ষতি হলে প্রশাসন দায়ী থাকবে।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১ জুন ব্যবসায়ী সোহাগকে অপহরন করা হয়। পরের দিন ২ জুন তিনি অপহরন অবস্থা থেকে উদ্ধার হন। এই ঘটনায় ৩ জুন তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামীদের গ্রেফতার করা হলে ৩০ ডিসেম্বর আসামীরা জামিন লাভ করে। জামিন লাভ করার পর অপরাধীরা আবারও ব্যবসায়ী সোহাগকে হুমকি দেয়। ফলে গত ১২ জানুয়ারী তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করেন। পরে পুলিশ দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করে। গতকাল পুলিশ তাদের ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করে তাদেরকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দেন।
প্রসঙ্গ নারায়ণগঞ্জের এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ীকে অপরহরন এবং সম্প্রতি অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় এই শহরের ব্যবসায়ী সমাজে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্টানগুলোতে এই ঘটনার নেতিবাঁচক প্রভাব পরেছে এবং নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্থরের সাধারন মানুষের মাঝেও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পরেছে। তাই ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সমাজের সর্ব স্থরের মানুষ এসব ঘটনার সুষ্টু তদন্ত ও ব্যবসায়ী সোহাগ যে নির্মম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তার প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছে।