ফতুল্লার চার ইউনিয়নকে অন্তর্ভূক্ত করেই নাসিক নির্বাচন?

20

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে চারটি ইউনিয়ন। কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ কারণে এবার বক্তাবলী ইউনিয়ন ছাড়া ফতুল্লার বাকি চারটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এসব ইউনিয়ন সরাসরি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে নাসিক নির্বাচনের মাধ্যমেই এসব এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহান জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত এই চার ইউনিয়নকে নাসিকের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। এর পরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন মহলে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই চারটি ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং নাগরিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সীমানা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে আসন্ন নাসিক নির্বাচনেই নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে করে ফতুল্লার এই ইউনিয়নগুলো প্রথমবারের মতো নগর প্রশাসনের অধীনে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাবে।
এদিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আপাতত এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় সেখানে পৃথকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হবে। তবে একই সঙ্গে তারা চান, অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াটি যেন দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আসা শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের নগর রূপান্তর। তবে এই পরিবর্তনের সুফল পেতে হলে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত বাজেট এবং কার্যকর সমন্বয়।
সব মিলিয়ে, ফতুল্লার চার ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে নাসিক নির্বাচন আয়োজনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা হবে এলাকার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং এই পরিবর্তন কতটা কার্যকরভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। ##