নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফতুল্লা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দায়ের করা একটি সাধারন ডায়েরী নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে ভয়ংকর ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হাসনা বানু একই পরিষদের পুরুষ সদস্য রশিদ আহম্মেদ-এর বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার হুমকি, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ এনে ফতুল্লা থানায় এই জিডি দায়ের করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরে দীর্ঘদিন ধরে মেম্বার রশিদ আহম্মেদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিরোধের জেরে রশিদ আহম্মেদ একাধিকবার হাসনা বানুকে প্রকাশ্যে ও গোপনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতি ও হত্যার আশঙ্কার কথাও জিডিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধি যখন নিজের দপ্তর ও সহকর্মীর কাছ থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয় এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ। বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে যদি নারী সদস্যকে প্রাণরক্ষার জন্য জিডি করতে হয়, তাহলে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।
জিডিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত রশিদ আহম্মেদের আচরণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন সন্ত্রাসী ভাষা ও আচরণ শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, এটি জনপ্রতিনিধিত্বের নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সহকর্মীকে দমিয়ে রাখার এই প্রবণতা স্থানীয় রাজনীতিতে ভয়ংকর নজির স্থাপন করছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে একই পরিষদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আরেকজন সদস্য যখন প্রকাশ্যে প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন, তখন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক তদারকি কোথায়? স্থানীয় সরকার বিভাগ, থানা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই বিরোধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
জিডির মাধ্যমে হাসনা বানু স্পষ্টভাবে তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এখন দেখার বিষয়, একজন নারী জনপ্রতিনিধির এই গুরুতর অভিযোগকে প্রশাসন কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে। ##




