প্রতিক নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিত্বই এই আসনে ভোটারদের মূল বিবেচ্য

68

স্টাফ রিপোর্টার :

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিল আকার ধারণ করছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার নেই দলটির নিজস্ব কোনো প্রার্থী। জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিয়েছে শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে। ফলে নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত রয়েছে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ।
একইভাবে জামায়াতে ইসলামীরও নেই কোনো প্রার্থী। দলটি এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে এনসিপিকে। ফলে দেশের জনপ্রিয় দুই দল বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের পরিচিত প্রতীক ধানের শীষ ও দাড়ি-পাল্লা না থাকায় ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক ভোটাররা পড়েছেন বড় ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায়। তারা কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় দুই দলের প্রতীক না থাকায় ভোটের মাঠে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত এক বছর ধরে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাংগঠনিক কাজ করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার। শেষ মুহূর্তে তাকেও নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে এনসিপির একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে, যা ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, বড় দুই দল নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রার্থী চাপিয়ে দিয়েছে। এই সুযোগেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্তত তিনজন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন। তারা হলেন,
আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম,
আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
এবং আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী।
এই তিনজনই এলাকায় পরিচিত মুখ এবং নিজ নিজ অবস্থানে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ফলে ভোটারদের বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, কাকে রেখে কাকে ভোট দেবেন—সে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে এই আসনের ভোট চার ভাগে বিভক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোট পেতে পারেন দল-সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী। তবে বাকি তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীও সমানতালে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। দিন যত গড়াচ্ছে, ভোটের সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা।