“দল ফ্যাসিবাদী হলেও আইভী ছিলেন ব্যাতিক্রম”

214

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়ে শহরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা যায়। তবে তার জামিন, মামলা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জনমনে ভিন্ন ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইভী দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছেন। তাদের মতে, তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সব রাজনৈতিক পরিচয়ের নাগরিকদের সমানভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং স্থানীয় সরকার পরিচালনায় একটি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি অংশ দাবি করছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘাত-সংক্রান্ত মামলায় অনেকের নাম আসায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইভীর নাম যুক্ত হওয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা উচিত কি না এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য না করাই উত্তম এবং আদালতের প্রক্রিয়াকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ইস্যুটি এখন শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মামলা নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন এবং আইনের প্রয়োগ নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ফলে জনমনে যেমন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপরও নজর রাখছে সাধারণ মানুষ।
সব মিলিয়ে, সাবেক মেয়র আইভীর মামলা ও জামিন প্রশ্নে নারায়ণগঞ্জে যে আলোচনা চলছে তা এখনো থেমে যায়নি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের ওপরই নির্ভর করছে এমন মতই দিচ্ছেন অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞ। ##