নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের আসন্ন নির্বাচন...

জুয়েলকে ঘিরে নতুন সমীকরণ, সোলায়মানের সমর্থকরাও পাশে

774

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সদস্যদের মধ্যে চলছে আলোচনা, আর এরই মধ্যে সভাপতি পদে তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে মাহবুবুর রশীদ জুয়েলের নামটি জোরালোভাবে সামনে এসেছে। তাকে ঘিরে ক্লাবের নবীন ও প্রবীণ সদস্যদের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ২০২৫ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এম সোলায়মান ও মাহবুবুর রশীদ জুয়েল। ওই নির্বাচনে এম সোলায়মান ৯১৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। জুয়েলও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে তার শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পরও ক্লাবের কর্মকাণ্ডে জুয়েলের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকে। তিনি এর আগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত এই শিল্পোদ্যোক্তা জুলফিকার স্টিল মিলের সত্ত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে জুয়েল নতুন করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ক্লাবসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে তিনি নিজেকে কেবল একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, স্মার্ট ও আধুনিক চিন্তাভাবনা এবং সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন বয়সী ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।

বিশেষ করে তরুণ সদস্যদের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় এখন নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই জুয়েলকে তারা সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে উঠেছে সাবেক সভাপতি এম সোলায়মানের অবস্থান। ২০২৫ সালের নির্বাচনের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও সোলায়মান সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে আবারও নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বদিউজ্জামান বদু পান ৩৪৪ ভোট।

তবে ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবার সোলায়মান সভাপতি পদে প্রার্থী হতে না পারার বিষয়টি সামনে আসছে বলে ক্লাব সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ অবস্থায় তার দীর্ঘদিনের সমর্থকদের একটি অংশ জুয়েলের প্রতি সমর্থন জানাতে পারে—এমন একটি নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

ফলে এবারের নির্বাচনে জুয়েলের অবস্থান আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগেরবার তিনি ছিলেন বর্তমান সভাপতির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। এবার সেই একই ক্লাবের নির্বাচনে পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, সাবেক সভাপতির সমর্থকগোষ্ঠীর একটি অংশও তার পাশে এসে দাঁড়াবে।

ক্লাব সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সমর্থন যদি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে নির্বাচনের হিসাব অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে। কারণ নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়ী মহলে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন প্রজন্মের সদস্যদের আস্থা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ও ভোটের সমীকরণ স্পষ্ট হয়নি। ফলে জুয়েলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বর্তমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী নির্বাচনী জোটে পরিণত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের আসন্ন নির্বাচন এবার শুধুমাত্র একটি পদে কে জয়ী হবেন—সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব—কোন ধারাকে সদস্যরা বেছে নেবেন, সেটিও এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই ক্রমেই উঠে আসছে মাহবুবুর রশীদ জুয়েলের নাম।