নারায়ণগঞ্জের জিমখানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চায়েত কমিটির নেত্রী বিভা হাসান। মাদকবিরোধী সফল সমাবেশের পরও নতুন করে প্রতিবাদ সভা করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে জিমখানার মাদকবিরোধী অর্জন নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।শুক্রবার ২৮ আগষ্ট বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডস্থ নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভা হাসান বলেন, প্রায় তিন মাস আগে পঞ্চায়েত কমিটি গঠনের পর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। সম্প্রতি জিমখানায় অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশেও নারী-পুরুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। বিশেষ করে মা-বোনদের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই মাদকবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কমিটিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই বলেছিলাম,কমিটির কেউ অন্যায়ের সঙ্গে আপস করলে কিংবা অপরাধে জড়ালে আমি সেখানে থাকব না। একজনের কারণে আজ আবার আমাদের প্রতিবাদ সভায় বসতে হচ্ছে,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।মিঠু ও তার বড় ভাই অপুকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বিভা হাসান বলেন, পঞ্চায়েত কমিটিকে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে নিয়ম ও আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দোকান ও কোয়ার্টার বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি:আগে যাদের দোকান বা কোয়ার্টার ছিল,শাহ আলম, তানভীর, আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট ভাড়া বা রেট নির্ধারণের মাধ্যমে তাদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে হবে,পূর্বে যেসব কোয়ার্টার বা জায়গায় তালা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়ে নিজেরা কোনো সংঘাতে না গিয়ে স্থানীয় থানায় জমা দিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
মিঠু বা অপু কিংবা অন্য কেউ এলাকায় বাড়াবাড়ি, বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জিমখানা এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান তিনি।
ফেসবুক, টিকটক কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে পঞ্চায়েত কমিটিকে মূল লক্ষ্য,এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখা,এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান বিভা হাসান।
বিভা হাসান আরও বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি সত্যিকার অর্থে ভালো পথে ফিরে আসতে চায়, তাহলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে। কারণ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও আমাদের ভাবতে হবে। তারা যেন পড়াশোনা করে সমাজে আলো ছড়াতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব,তিনি দ্রুত পঞ্চায়েত কমিটির বৈঠক ডেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা ও জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
বিভা হাসানের বক্তব্যে স্পষ্ট,জিমখানাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে সামাজিক ঐক্য, নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ,এই তিনটি বিষয়েই কোনো আপস করা হবে না।
নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ফররুখ আহমেদ ফারুক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নতুন জিমখানা যুব কমিটির উপদেষ্টা তছলিমা মাজহার জলি।
নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ফররুখ আহমেদ ফারুক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নতুন জিমখানা যুব কমিটির উপদেষ্টা তছলিমা মাজহার জলি।
নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ফররুখ আহমেদ ফারুক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নতুন জিমখানা যুব কমিটির উপদেষ্টা তছলিমা মাজহার জলি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু, নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. ইমন, দপ্তর সম্পাদক মো. সানি, যুব কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহান সহ নতুন জিমখানা এলাকার বাসিন্দারা।




