নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬’-কে স্বাগত জানিয়েছে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ (ইকগঊঅ)। শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিলটি পাসের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও আইনের কিছু ধারায় রয়ে যাওয়া অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বিকেএমইএ মনে করে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনায় আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে শিল্প সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদী শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করা হয়েছিল বলে মনে করছে সংগঠনটি, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সহজীকরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা সংশোধন করে পাস করলেও এখনও কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। শিল্প কল-কারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী শ্রমবিধি এবং আইন সংশোধনের সময় এই অস্পষ্টতাগুলো দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।
শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখাকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে একইসাথে বিকেএমইএ দাবি করেছে, যদি কোনো ব্যক্তি শ্রমিক পরিচয়ে অন্যায়ভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কর্মকর্তাদের জিম্মি করা কিংবা অবৈধ ধর্মঘট করে শিল্পের ক্ষতি করে, তবে সেটিকেও ‘অসৎ শ্রম আচরণ’ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠিন শাস্তির বিধান রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, যারা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারে নির্দেশনামূলক ভূমিকা রাখছেন, তারা যেন তদারকি করেন যে আন্তর্জাতিক ক্রেতা গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের ‘ফেয়ার ও ইথিক্যাল মূল্য’ দিচ্ছে কি-না। অন্যথায় দিনশেষে শিল্প এবং শ্রমিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ##




