কি করছেন এমপি ও সরকারী দলের দাপুটে নেতারা? ফতুল্লায় বাড়ছে মাদক-সন্ত্রাসের দাপট

244

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—সরকারি দলের বাইরে থেকেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন অ্যাডভোকেট আলআমিন। সংসদে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে জনপ্রতিনিধির উন্নয়নমূলক তৎপরতার মধ্যেও ফতুল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ফতুল্লাজুড়ে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় উঠতি সন্ত্রাসীদের দাপটও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে।

ফতুল্লার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দল বিএনপির কয়েকজন নেতার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাদের মধ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। তাদের নেতৃত্বে থানা এলাকার বিপুলসংখ্যক কিশোর ও যুবক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রভাবকে কেউ কেউ ইতিবাচক শক্তি হিসেবে দেখলেও অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য ছাড়া কাউকে কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

অন্যদিকে ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির নেতাকর্মীদের মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি থাকলেও এখনো প্রশাসনিক কিংবা সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে রাজনৈতিকভাবে বহুমাত্রিক উপস্থিতি থাকলেও মাঠের বাস্তব নিয়ন্ত্রণে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের প্রভাবই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় ফতুল্লার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—রাজনৈতিক প্রভাবকে কীভাবে এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে। কারণ শুধু রাস্তা-ঘাট, অবকাঠামো কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না; একই সঙ্গে প্রয়োজন নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ।

স্থানীয়দের মতে, মাদক, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

অ্যাডভোকেট আলআমিনের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি ফতুল্লার সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব যদি মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজে লাগানো যায়, তাহলে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।