রফিকুল ইসলাম জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের তিন সদস্য—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারার তিনটি আলাদা অধ্যায়। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের সূচনা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যার বড় অংশ রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, সেই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—পিতা ও মাতার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে কীভাবে তুলনা করা যায় এবং বর্তমান সরকার কোন পথে এগোচ্ছে?
জিয়াউর রহমানের সময়কার বাংলাদেশ ছিল স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছর পরের এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দেশ। খাদ্য ঘাটতি, দুর্বল শিল্পভিত্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্যে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর শাসনামলে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বেসরকারি খাতকে অধিকতর সুযোগ দেওয়া, পরিত্যক্ত ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনর্বিন্যাস এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের ঐতিহাসিক গবেষণাতেও ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত ও বেসরকারিকরণের দিকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর কর্মসূচি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের একটি গবেষণায় তাঁর কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্য হিসেবে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করা, সেচ সম্প্রসারণ, উচ্চফলনশীল বীজ, সার এবং কৃষিঋণের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮১ সালের সমসাময়িক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ তখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছিল এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিকে সেই অগ্রগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ খাদ্য ও শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে ফেলেছিলেন—এমন সরল ঐতিহাসিক দাবি নথিপত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। বরং তাঁর সময় শুরু হওয়া কৃষি ও অর্থনৈতিক সংস্কার পরবর্তী কয়েক বছর ধরে ফল দিতে থাকে। একইভাবে শিল্পক্ষেত্রেও তাঁর সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজারমুখী অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু বাংলাদেশের শিল্পায়নের পুরো পরিবর্তনকে এককভাবে তাঁর সময়ের অর্জন হিসেবে দেখলে ইতিহাস অতিরঞ্জিত হয়ে যায়।
তারপর আসে খালেদা জিয়ার অধ্যায়। ১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যায় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিও বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ২০০১ সালের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা সেটিকে মোটের ওপর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফার বড় মেয়াদের সরকার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করে। এই সময়ে শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতের সম্প্রসারণ, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। Banglapedia-র ঐতিহাসিক বিবরণে ওই সময়ে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতের সম্প্রসারণ এবং জঙ্গিবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে খালেদা জিয়ার সরকারের সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ ছিল ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এবং পরবর্তীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব গঠন। সরকারের বক্তব্য ছিল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনের জন্য কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল এবং এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সন্ত্রাস দমনে এসব পদক্ষেপের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছিলেন।
তবে এই অধ্যায়টির আরেকটি দিকও ইতিহাসের অংশ। অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় আটক ব্যক্তিদের মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে ওই অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক এবং অন্তত ৫০ জনের হেফাজতে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়ার আইন নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়েও অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
এ কারণে খালেদা জিয়ার আমলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে শুধু ‘সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির সময়’ হিসেবে দেখলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। আবার একই সঙ্গে এটিও সত্য যে তাঁর সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল এবং জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে পরবর্তী সময়ে জেএমবি ও হুজির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে খালেদা জিয়ার শাসনামলকে মূল্যায়ন করতে হলে আইনশৃঙ্খলা অর্জন এবং মানবাধিকার বিতর্ক—দুই দিকই বিবেচনায় নিতে হয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নেও একই ধরনের দ্বৈত চিত্র পাওয়া যায়। সে সময়ের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উচ্চতর আদালত অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলা হলেও একই সঙ্গে বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইনসভার প্রভাবমুক্ত ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়। ফলে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ’ বা ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রশাসন’—এমন নিরঙ্কুশ বর্ণনা ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারার তৃতীয় অধ্যায় এখন তারেক রহমানের। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। শুরুতেই তাঁর মন্ত্রিসভায় পুরনো অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নতুন মুখ স্থান পায়। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই প্রথমবার মন্ত্রিত্বে আসেন এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই ছিলেন নতুন মুখ।
এই জায়গাতেই তারেক রহমানের সরকারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। একদিকে নতুন প্রজন্ম, নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও অভিজ্ঞতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভাঙার চেষ্টা করেছেন—এমন ব্যাখ্যা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা অনেক পুরনো নেতার প্রত্যাশিত মূল্যায়ন হয়নি—এমন অসন্তোষও দলীয় মহলে রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মন্ত্রিসভা গঠনের সময় বিএনপির কয়েকজন পরিচিত ও দীর্ঘদিনের নেতার নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল।
তবে তারেক রহমান যে কেবল নতুনদের ওপর নির্ভর করেছেন—এমন চিত্রও সম্পূর্ণ নয়। তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভায় খালেদা জিয়ার সরকারের নয়জন সাবেক মন্ত্রী আবার মন্ত্রিসভায় ফিরে আসেন। পাশাপাশি তিনি মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীর মতো দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় আবার পরিবর্তন আনাও তাৎপর্যপূর্ণ। আগস্ট ২০২৬-এ তারেক রহমানের সরকার চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করে। সংবাদ বিশ্লেষণে এটিকে সরকারের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা, দল ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য এবং প্রশাসনে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—তিনি কি পিতা ও মাতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে শুধু বহন করবেন, নাকি নিজের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনার মডেল তৈরি করবেন?
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, বেসরকারি খাত ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ওপর জোর। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে সংসদীয় গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবাধিকার বিতর্কও রয়েছে। আর তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য হলো তুলনামূলকভাবে নতুন মুখকে সামনে আনা এবং পুরনো ও নতুন শক্তির সমন্বয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা।
কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি এখনও সামনে। কারণ সরকার গঠনের সময় নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া এক বিষয়, আর তাদের দিয়ে কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা করানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে শুরুতেই যে আলোচনা হয়েছিল, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ঘটনাও সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণেও নতুন সরকারের জুনিয়র মন্ত্রীদের বড় অংশকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিএনপির পুরনো কর্মীদের মূল্যায়ন। দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দলীয় কর্মীদের দাবি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যেকোনো সরকারের জন্যই কঠিন। জুলাই ২০২৬-এ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা প্রকাশিত হয়; সমালোচকদের বক্তব্য ছিল, এসব নিয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে তারেক রহমান দলের ভেতরের জবাবদিহিতার একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছেন। মে মাসে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সামনে মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড উপস্থাপনের ব্যবস্থা করেন এবং মন্ত্রীদের নিয়মিতভাবে দলের তৃণমূলের কাছে জবাবদিহি করার একটি প্রক্রিয়ার কথা সামনে আসে।
সব মিলিয়ে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের রাষ্ট্র পরিচালনার তুলনা করতে গেলে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে আসে। জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেন স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যস্ত এক সময়ে; খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন পর্বে এবং পরবর্তী সময়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা সংকটের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন; আর তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, যেখানে জনগণের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফলে তারেক রহমানের মূল্যায়ন এখনই চূড়ান্তভাবে করা সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হবে আগামী কয়েক বছরে—অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল হয়, প্রশাসন কতটা কার্যকর ও নিরপেক্ষ থাকে, আইনশৃঙ্খলা কতটা উন্নত হয়, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কী ফল আসে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের প্রত্যাশা ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে তিনি কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করেন—এসব প্রশ্নের উত্তরেই তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারিত হবে।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার তাই তারেক রহমানের জন্য একই সঙ্গে শক্তি ও চ্যালেঞ্জ। পিতা-মাতার সাফল্য তাঁর জন্য রাজনৈতিক পুঁজি তৈরি করেছে, কিন্তু সেই উত্তরাধিকারকে সফল রাষ্ট্র পরিচালনায় রূপান্তর করতে হলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রশাসনিক দক্ষতা, যোগ্য লোক বাছাইয়ের ক্ষমতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্তের ফল দিয়ে নিজেকেই প্রমাণ করতে হবে।




