বন্দর থানায় গৃহকর্ত্রীর লিখিত অভিযোগ, তদন্তের দাবি...

ভাড়ার টাকা চাওয়ায় হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

47

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে বাসা ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করা, পাওনা টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেছেন এক গৃহকর্ত্রী।

অভিযোগকারী শামীমা আক্তার (৩৬) বন্দর থানার নবীগঞ্জ কৈতাখালী এলাকার বাসিন্দা। গত ২৫ আগস্ট তিনি বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি চারজনকে বিবাদী করেছেন। তারা হলেন—সাবিকুন্নাহার ছোঁয়া (২৫), তার স্বামী মো. বাপ্পি (৩০), শাহা আলম (৫৫), মো. সেলিম (৪৫) ও দীল মোহাম্মদ (৫০)। অভিযোগে তাদের ঠিকানা বন্দর থানার নবীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শামীমা আক্তার দাবি করেন, ১ ও ২ নম্বর বিবাদী তার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে বাসা ভাড়া পরিশোধ করছেন না। ১ নম্বর বিবাদীর কাছে বাসা ভাড়া বাবদ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ২ নম্বর বিবাদীর কাছে ২৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ১ নম্বর বিবাদীর কাছ থেকে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা ধার নেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ১ নম্বর বিবাদীর পক্ষ থেকে তার স্বামীকে ব্যবহার করে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। সেখানে গিয়ে চাকরি শুরু করার পর টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পরও পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শামীমার। এরপর তিনি পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে ১ নম্বর বিবাদী ৩ ও ৪ নম্বর বিবাদীর সঙ্গে যোগসাজশ করে অভিযোগকারীর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শামীমা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামীর মাধ্যমে ৩ নম্বর বিবাদীর ছেলে মো. ইমরান (২২) এবং ৪ নম্বর বিবাদীর ছেলে মো. মাহিন (২৩) বৈধভাবে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ভিসা পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে তার স্বামী ও পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ চ্যানেলের ফেসবুক পেজে অভিযোগকারীর স্বামীর ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, বিবাদীদের এমন কর্মকাণ্ডে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

অভিযোগের শেষাংশে শামীমা আক্তার বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বন্দর থানার ওসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।