প্রমাণ ছাড়া আমাকে দায়ী করা হয়েছে’: সংবাদচর্চার প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সোহাগের তীব্র প্রতিবাদ

384

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের বিরুদ্ধে আটা-ময়দার বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদচর্চা পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, বাস্তবতাবিবর্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং সামাজিকভাবে তাঁর মান-মর্যাদা হেয় করার উদ্দেশ্যেই তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সোহাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কোনো ক্রেতার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ বা ৩০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেননি এবং এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো নির্দেশও দেননি।

সোহাগ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত। তিনি কোনো ক্রেতার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ বা ৩০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তাঁকে এমন একটি অভিযোগের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রতিবেদনে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কার কাছ থেকে, কখন, কোথায় এবং কীভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, রসিদ, চালান কিংবা লেনদেনের নথি উপস্থাপন করা হয়নি।

সোহাগের প্রশ্ন, তিনি যদি কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই লেনদেনের প্রমাণ কোথায়। কে টাকা দিয়েছেন, কাকে দিয়েছেন, কোন মিল থেকে দিয়েছেন এবং কোন চালানের মাধ্যমে দিয়েছেন—এসবের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। শুধু একজন ব্যবসায়ীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি অভিযোগের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত করে দেওয়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপনায় তাঁর ছবি ব্যবহার করায় বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহাগ। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পাঠকের কাছে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগটি করা হয়েছে—এমন ধারণা সৃষ্টি হয়।

সোহাগ বলেন, তাঁর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বহু বছর ধরে তিনি যে অবস্থান তৈরি করেছেন, একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা ব্যবসা বর্তমানে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রমিক ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে এই শিল্পের ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।

সোহাগের দাবি, ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান ও শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কাজ করছেন। নিতাইগঞ্জের মিল মালিকদের সমস্যা, পণ্য লোড-আনলোডের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর প্রশ্ন, যে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি ব্যবসায়ীদের সৎ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবসা করার আহ্বান জানাচ্ছেন, ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন, সেই তাঁকেই আবার কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হলো কেন।

সোহাগ আরও বলেন, আটা-ময়দার বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গমের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর, আমদানি ব্যয়, পরিবহন, শ্রমিক খরচ, উৎপাদন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম বাড়লেই সেটিকে কারও ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি বলেন, বাজারদর এবং ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাজারে কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ল, সেটি নথিপত্র ও বাজারতথ্য দিয়ে যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

সোহাগ জানান, তিনি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে সংবাদ প্রকাশের নামে কোনো ব্যক্তির সামাজিক ও ব্যবসায়িক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার কারও নেই। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা এবং অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নন, বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের নামে যদি একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কোনো অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর নাম-ছবি ব্যবহার করে মানুষের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়, তাহলে তার প্রতিবাদ করার অধিকারও তাঁর রয়েছে।

এদিকে সংবাদচর্চায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোহাগ বলেন, তাঁর সম্মানহানি হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি হালকাভাবে দেখছেন না। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ ছাড়া তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ আবারও প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত।

তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে ভবিষ্যতে তাঁর বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং তাঁর বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে তাঁর যে সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়টিও আইনগত প্রক্রিয়ায় তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।