হতাশ নারায়ণগঞ্জজুড়ে থাকা সমর্থকরা

মন্ত্রিসভায় জায়গা হলো না নজরুল ইসলাম আজাদের 

469

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবারও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না। নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন তাঁর অনুসারীরা।

শুধু আড়াইহাজারেই নয়, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী এলাকাতেই নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক অনুসারী ও সমর্থক রয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এসব সমর্থকের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় তাঁর নাম আসতে পারে—এমন প্রত্যাশা ছিল নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার তাঁর অনুসারীদের মধ্যেও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর বিজয়ের পর আড়াইহাজারে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার কারণে নতুন সরকারে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয়।

নির্বাচনের আগে ও পরে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছিল, সেখানেও নজরুল ইসলাম আজাদের নাম উঠে আসে। তাঁর সমর্থকদের অনেকেই মনে করছিলেন, নির্বাচনে বড় জয় এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এই প্রত্যাশা শুধু আড়াইহাজারের নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকাতেও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে একই ধরনের আলোচনা ছিল।

নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক প্রভাব শুধু তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এমন দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের। নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন সময় এসব নেতাকর্মীকে তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ফলে মন্ত্রিসভা গঠনের আগে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন নজরুল ইসলাম আজাদের নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যেই আশা প্রকাশ করেছিলেন, এবার তাঁদের নেতা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নজরুল ইসলাম আজাদের নাম না থাকায় সেই প্রত্যাশায় ছেদ পড়েছে। এতে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ হতাশ হয়েছেন। বিশেষ করে যারা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে এই হতাশাকে সাময়িক হিসেবে দেখছেন তাঁর অনেক অনুসারী। তাঁদের মতে, মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও সংসদ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদের সামনে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয়তা, দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারেন।

মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও সংসদীয় পরিসরে নজরুল ইসলাম আজাদের অবস্থান একেবারে উপেক্ষণীয় নয়। চলতি বছরের জুনে জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই কমিটিতে তিনজন সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছিলেন। তাঁর সমর্থকরা এটিকে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন প্রশ্নে জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রেও নজরুল ইসলাম আজাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় না থাকলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল, যোগাযোগব্যবস্থা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, জলাবদ্ধতা, নদী ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যা জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু মন্ত্রিত্বের ওপর নির্ভর করে না। দলীয় নীতিনির্ধারণ, সংসদীয় কার্যক্রম এবং নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমেও একজন নেতা জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারেন। নজরুল ইসলাম আজাদের ক্ষেত্রেও এখন দেখার বিষয় হবে, মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার পর তিনি কীভাবে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত করেন।

তবে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, মন্ত্রিত্ব না পেলেও নজরুল ইসলাম আজাদ যেন জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন এবং নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে আড়াইহাজারের বাইরে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য আসনে থাকা তাঁর অনুসারীরাও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

আড়াইহাজারের ভোটাররা বিপুল ভোটে নজরুল ইসলাম আজাদকে সংসদে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ার পর এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও জাতীয় রাজনীতিতে নিজের কার্যকর উপস্থিতি তুলে ধরা। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, মন্ত্রী না হলেও রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবেন।