একটি দুর্বল ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।...

কানসাটের রক্তাক্ত ইতিহাস, আজকের লোডশেডিং—টুকুর নেতৃত্বে ফের প্রশ্ন

409

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ফের তীব্র সংকট। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন ও শিল্প উৎপাদনে চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে মন্ত্রিসভায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে ২০০৬ সালের কানসাট বিদ্যুৎ আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি সামনে এনে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—বিদ্যুৎ সংকট ও জনদুর্ভোগের মতো স্পর্শকাতর একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?

সরকারের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। মন্ত্রী বলছেন, বর্তমান সংকটের মূল সমস্যা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি নয়; বরং পর্যাপ্ত জ্বালানি, গ্যাস সরবরাহ এবং সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। সংসদেও তিনি বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। তবে জ্বালানির স্বল্পতা, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

এই ব্যাখ্যা অবশ্য জনদুর্ভোগ কমাতে পারছে না। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও যদি পর্যাপ্ত গ্যাস বা জ্বালানি না থাকে, তাহলে সেই উৎপাদন সক্ষমতা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রী নিজেও বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যথেষ্ট হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি ও সঞ্চালন অবকাঠামোর অভাবে পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বর্তমান সংকটের অন্যতম বড় কারণ গ্যাস সরবরাহ। জুলাইয়ে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আগস্টের শুরুতে টার্মিনালটির একটি অংশ চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহক—সবখানেই গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে।

এরই মধ্যে আগস্টের মাঝামাঝি আবারও এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের খবর এসেছে। ১৪ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়।

গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নেই। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

অর্থাৎ বর্তমান সংকটের বাস্তবতা হলো—বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদন সক্ষমতাও আছে; কিন্তু সেই কেন্দ্রগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে সরকার কতটা প্রস্তুত ছিল?

এই প্রশ্নের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসে ২০০৬ সালের কানসাট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সে সময় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। জানুয়ারি ২০০৬-এ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। ২৩ জানুয়ারির ঘটনায় সাতজন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারির ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে এপ্রিলেও কানসাটে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ৬ এপ্রিলের ঘটনায় তিনজন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। সমকালীন প্রতিবেদনে জানুয়ারি থেকে কানসাট আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। আবার ১৬ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে প্রায় সাড়ে তিন মাসের আন্দোলনে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করা হয়।

অর্থাৎ কানসাটের আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে সমকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। তবে একটি বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই—বিদ্যুতের দাবিতে কানসাটের আন্দোলন রক্তাক্ত হয়েছিল এবং ঘটনাটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর দাগ রেখে গেছে।

তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেই কারণেই বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তার থাকা কানসাটের স্মৃতিকে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে কানসাটের প্রতিটি প্রাণহানির সরাসরি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দায় বর্তমান মন্ত্রীর ওপর চাপানো হলে তা ঐতিহাসিক ও আইনি দিক থেকে অতিরঞ্জিত হয়ে যেতে পারে। কারণ ঘটনাগুলোতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরের ভূমিকা ছিল। তাই কানসাটকে বর্তমান রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও প্রত্যক্ষ দায় নির্ধারণে প্রামাণ্য তদন্ত ও নথির প্রয়োজন রয়েছে।

তবু প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে—যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের জীবন, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির সরাসরি সম্পর্ক, সেই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এমন একজন পুরোনো রাজনৈতিক মুখকে রাখার ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহির মানদণ্ড কী?

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা একটি দুর্বল ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সংসদে মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার অনাদায়ী দায়সহ একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থা বর্তমান সরকার পেয়েছে। সরকার একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎও বড় জায়গা পাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানানো হয়েছে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ব্লকের আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। একটি টার্মিনালের জন্য ইতোমধ্যে আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু এখানেই নতুন প্রশ্ন—সংকট মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও সাধারণ মানুষ আজকের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছেন কতটা?

কারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান যত বাড়বে, রাজনৈতিক চাপও তত বাড়বে।

বাংলাদেশের গ্যাস সংকটের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো আমদানিনির্ভরতা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি। আমদানি করা এলএনজি দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জোগান দেয়।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিংবা কোনো এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলেই দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই বাস্তবতা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও উদ্বেগের। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানার উৎপাদন কমে, বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে এবং বিদ্যুৎ কমলে আবার শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এখন শুধু ঘরের ভোগান্তির বিষয় নয়; এটি অর্থনীতির উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

একদিকে মন্ত্রী বলছেন, দেশে বিদ্যুতের মোট সক্ষমতা যথেষ্ট এবং বর্তমান সমস্যার মূল কারণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ তুলেছেন। এই দ্বৈত বাস্তবতাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জনগণের কাছে হিসাবটি অবশ্য আরও সরল—বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে কি না, উৎপাদন সক্ষমতা কত মেগাওয়াট কিংবা গ্যাসের ঘাটতি কোথায়; এসবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুইচ চাপলে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে কি না।

একইভাবে শিল্প উদ্যোক্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কারখানায় প্রয়োজনীয় চাপের গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে কি না।

সুতরাং বর্তমান সংকটের রাজনৈতিক মূল্যায়নও শেষ পর্যন্ত মানুষের অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করবে।

২১ আগস্ট সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বহাল রয়েছেন। সরকারের দৃষ্টিতে এটি হয়তো ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছে এর অর্থ হতে পারে ভিন্ন।

তাদের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট যখন সরকারের সবচেয়ে বড় জনভোগান্তির কারণগুলোর একটি, তখন মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের সময় এই মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হলো না কেন?

আর যদি মন্ত্রীকে বহাল রাখাই হয়, তাহলে তার কাছে কি নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ সংকট সমাধানের কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে?

২০০৬ সালের কানসাটে মানুষের দাবি ছিল বিদ্যুৎ। ২০২৬ সালেও মানুষের দাবি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত গ্যাস এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি।

পার্থক্য শুধু সময়ের। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল। ২০২৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ, গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানিনির্ভরতা এবং সঞ্চালন অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এ কারণেই টুকুকে ঘিরে বিতর্কটি কেবল একজন মন্ত্রীকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। এটি আসলে একটি মৌলিক প্রশ্নকে সামনে এনেছে—বাংলাদেশ কি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াবে, নাকি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো জ্বালানি নিরাপত্তা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনাও নিশ্চিত করবে?

কানসাটের রক্তাক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—বিদ্যুৎ মানুষের কাছে কোনো বিলাসিতা নয়। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য এটি মৌলিক প্রয়োজন।

তাই বর্তমান সরকারের কাছে এখন রাজনৈতিক প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো জবাবদিহির প্রশ্ন।

মন্ত্রী থাকবেন কি থাকবেন না—এটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তিনি থাকলে জনগণকে বলতে হবে, কবে নাগাদ গ্যাস সংকট কমবে, কবে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আসবে, কতটা দেশীয় গ্যাস পাওয়া যাবে, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কতটা কমবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার কতটা বাস্তবে কাজে লাগানো যাবে।

কারণ কানসাটের ইতিহাস শুধু অতীতের একটি রক্তাক্ত অধ্যায় নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়—বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘায়িত হলে সেটি একসময় রাজনৈতিক সংকটেও রূপ নিতে পারে।