নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চারটি ইউনিয়ন এবং গোগনগর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত গণশুনানিতে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে সর্বসম্মত মতামত উঠে এসেছে। শুনানিতে উপস্থিত একজনও এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেননি। বরং বক্তারা একবাক্যে বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সেবার চরম সংকট থেকে মুক্তি পেতে এই পাঁচটি ইউনিয়নকে দ্রুত সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবীর। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে ফতুল্লার কুতুবপুর, কাশীপুর, ফতুল্লা ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের শত শত মানুষ অংশ নেন। সম্মেলন কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাইরে বারান্দা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে দেখা যায়।
শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবীর বলেন, “আজকের গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী সবাই সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১২টি আবেদন জমা পড়েছে। আপনারা সবাই সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছেন। প্রশাসন এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের মানুষ মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তাই আর বিলম্ব না করে ইউনিয়নগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির নেতা নাদিম হাসান মিঠু, এনসিপির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী বিপ্লব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ মহানগর সদস্যসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, ফতুল্লার ইউনিয়নগুলো বছরের পর বছর নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, অধিকাংশ সড়কের অবস্থা নাজুক, নেই কোনো আধুনিক নগর পরিকল্পনা। নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে প্রতিবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। দ্রুত বর্ধনশীল এই জনপদে প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, এই পাঁচটি ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার শিল্প-কারখানা এবং অঞ্চলটি কার্যত সম্পূর্ণ নগরায়িত। কৃষিজমি প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ এত বিশাল জনসংখ্যা ও শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাদের দাবি, বাস্তবতা বিবেচনায় বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জেরও আগে ফতুল্লা অঞ্চলকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা প্রয়োজন ছিল। এখন আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফতুল্লার চারটি ইউনিয়ন ও গোগনগর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।




