মন্তব্য প্রতিবেদন : এই শহরের এক নতুন সম্ভাবনার নাম আশা

76

রফিকুল ইসলাম জীবন :
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছেন আবুল কাউসার আশা। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও শুরুতেই তাকে ঘিরে নানা ধরনের শঙ্কা থাকলেও সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আবুল কাউসার আশা চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামের পুত্র এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও প্রয়াত এমপি আলহাজ্ব জালাল হাজীর নাতি। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এটা এখন নারায়ণগঞ্জবাসী সকলের জানা আছে যে, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজের পিতা সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামের মনোনয়ন নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণা জোরদারে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন আশা। তার সক্রিয় ভূমিকায় অনেকটা কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে যায় এবং এডভোকেট আবুল কালাম চতুর্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, তিনি মোট ছয়বার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন, এর মধ্যে চারবার জয়ী ও দুইবার পরাজিত হন।
তবে নির্বাচনের আগে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে শঙ্কা ছিল রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে আবুল কাউসার আশা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তথাকথিত ‘যুবরাজ’ রাজনীতির ধারায় হাঁটবেন কিনা। কেউ কেউ তাকে আজমেরী ওসমান বা অয়ন ওসমান-এর মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন।
কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন হতে শুরু করেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। পিতা পুনরায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আবুল কাউসার আশা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহরকে দখলমুক্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে তিনি দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছেন।
এরই মধ্যে শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন শহরের অভ্যন্তরে আর অবৈধভাবে হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-কে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এ অবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অনেকেই আশাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, শুরুতে মনে হয়েছিল উনিও হয়তো অন্যদের মতোই হবেন। কিন্তু এখন যে কাজগুলো করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি সত্যিই শহরের জন্য কিছু করতে চান।
আরেক বাসিন্দা রুবিনা আক্তার বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। এমপি পুত্র আশা যদি এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, আবুল কাউসার আশার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে ইতিবাচক, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির মধ্যে ধরে রাখা। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে নয়, বরং কার্যকর জনসেবার মাধ্যমে নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করাই হবে তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল ভিত্তি।
স্থানীয়দের একটি বড় অংশের বিশ্বাস, যদি তিনি একই ধারায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে ভবিষ্যতে পিতা ও দাদার পথ অনুসরণ করে তিনিও একদিন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, বিতর্ক ও শঙ্কা পেরিয়ে আবুল কাউসার আশা এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক সম্ভাবনাময় নাম এবং সময়ই বলে দেবে তিনি সেই সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। ##