এনায়েতনগরে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া, বিএনপির ডজনখানেক প্রার্থী, লড়াইয়ে এনসিপিও

339

শীতলক্ষা রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশায় এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকায় সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি।

এনায়েতনগরে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে আলোচনায় আছেন সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন। অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম আলমগীর হক। ২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন আলমগীর, তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচনের দিন সকালেই সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ভোট বর্জন করেছিলেন। এবার সেই ‘ছিনতাই হওয়া’ বিজয় ফিরে পেতে চান তিনি।

তালিকায় অন্যতম শক্তিশালী নাম করোনা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত রোজিনা বেগম। সাবেক এই নারী সদস্য ২০২২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের পরিবারের সরাসরি হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মাসদাইর কেন্দ্রে শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে র্যাব কর্মকর্তাদের শাসানোর সেই আলোচিত ঘটনাটি রোজিনা বেগমের পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখেন অনেকে। তবে করোনা মহামারিতে মানবিক কাজ এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার তিনি আলোচনার শীর্ষে।

এছাড়া গাবতলী এলাকার সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক সহিদুল হক সহিদ এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। জলাবদ্ধতায় নাকাল ইসদাইর-গাবতলী এলাকার মানুষের মাঝে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

যুবসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরাফাত। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ভাগিনা হওয়ায় তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে। প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের ছেলে অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান রুবেলও এবার বিএনপির টিকিটে প্রার্থী হতে আগ্রহী।

বিএনপির পাশাপাশি এনায়েতনগরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে এনসিপি। দলটির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন এনসিপি নেতা আলিফ দেওয়ান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সানাউল্লাহ। তারা দুজনেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

দীর্ঘদিন যাবত এনায়েতনগর ইউনিয়নের ভোটাররা ভোট দিতে না পারা এবং উন্নয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারবে এমন সৎ ও সাহসী নেতৃত্বই এখন ইউনিয়নবাসীর প্রধান দাবি। দলীয় হাই কমান্ড শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।